এই নতুন নীতিমালার আওতায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা যারা ডিজিটাল আধেয় তৈরি করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করতে হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে গিয়ে মেটা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, মূলত সেই বিশাল অর্থনৈতিক ঘাটতি পূরণের উদ্দেশ্যেই তারা এই নতুন বাণিজ্যিক কৌশল গ্রহণ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশদ প্রতিবেদনে এই ব্যবসায়িক পরিবর্তনের নেপথ্য কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেক আর্কের প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কাওসা জানান, মেটা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১২৫ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের এক বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে এবং আয়ের একটি স্থিতিশীল ধারা বজায় রাখতে তাদের নতুন আয়ের উৎস প্রয়োজন। শুধুমাত্র পুরনো বিজ্ঞাপনী আয়ের ওপর নির্ভর করে এই বিপুল ব্যয়ভার সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
তাছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি বাজারে আসার পর থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজা এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মেটাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
মেটার আয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত বছরও তাদের মোট আয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে। গত দুই দশক ধরে চেষ্টার পরও তারা বিজ্ঞাপনের বাইরে আয়ের নতুন কোনো শক্তিশালী খাত তৈরি করতে পারেনি।
এক্ষেত্রে গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো অন্যান্য শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে নিজেদের আয়ের উৎস বহুমুখী করেছে, মেটা সেই তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। কর্পোরেট গ্রাহকদের আস্থাও তারা পুরোপুরি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই মেটা নতুন এই সাবস্ক্রিপশন মডেলের দিকে ঝুঁকছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ট্রুইস্ট সিকিউরিটিজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে মেটার বার্ষিক আয় দুই হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে, প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী বছরেই এই খাত থেকে দেড় হাজার কোটি ডলারের বেশি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও অনেক অর্থনীতিবিদ এই লক্ষ্যমাত্রাকে অতি উচ্চাভিলাষী বলে মনে করছেন।
তবে অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মেটার এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে দেখছেন না। এআই বিশেষজ্ঞ শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনীর মতে, মেটার এই অর্থের বিনিময়ে সেবা প্রদানের কৌশলটি মূলত সাময়িক একটি পদক্ষেপ।
তার ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানটি যে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে, সেটি দ্রুত তুলে আনতেই তারা এই পথ বেছে নিয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে অতিরিক্ত কিছু প্রযুক্তিগত সুবিধা আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করে অর্থ উপার্জনের এই চেষ্টা মেটার ব্যবসায়িক মরিয়া ভাবেরই সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।