সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে উপস্থিত আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন চুক্তির শর্তের আড়ালে ইরানকে নগদ ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করা হয়েছিল।
তিনি তার বক্তব্যে ঘটনার বিবরণ দিয়ে উল্লেখ করেন, ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা একটি বিশেষ বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজে করে সরাসরি ইরানে পাঠানো হয়।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তেহরানে সেই অর্থবাহী বিমানটি পৌঁছানোর পর ইরানি কর্মকর্তারা সেটিকে বিপুল উচ্ছ্বাস ও আনন্দোল্লাসের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মূলত সুদৃঢ় কূটনীতির পরিবর্তে এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের একটি বড় সংকটের সমাধান খুঁজতে চেয়েছিলেন।
তবে তিনি নিজে দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, নিজের রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে তিনি কখনোই এই ধরনের দুর্বল পথ অনুসরণ করেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার পর ইরানের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, সেই প্রসঙ্গেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।
তিনি দাবি করেন, ওবামা প্রশাসনের কাছ থেকে ওই বিশাল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করার পরও ইরানি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল না; বরং তারা এই পদক্ষেপকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেছিল।
ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানিরা এই অর্থ পাওয়ার পর বারাক ওবামাকে নিয়ে আড়ালে হাসাহাসি করেছিল এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাকে একজন অত্যন্ত দুর্বল নেতা হিসেবে বিবেচনা করেছিল।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর ২০১৫ সালে ইরান এবং বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জেসিপিওএ নামের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
এই আন্তর্জাতিক চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সুনির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা, যার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো ধাপে ধাপে শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি কমানোর আশা করা হলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এর ঘোর বিরোধী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৮ সালে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর পুনরায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।