বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান ইস্যুতে জিনপিং ও পুতিনকে ট্রাম্পের ধন্যবাদ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

ইরান ইস্যুতে জিনপিং ও পুতিনকে ট্রাম্পের ধন্যবাদ
ছবি : Collected

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রদর্শন করা নিরপেক্ষ অবস্থানের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

তিনি উল্লেখ করেছেন, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের ক্ষেত্রে এই দুই পরাশক্তির সংযম ও অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ভূ-রাজনৈতিক মন্তব্য করেন।

 

আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে বিশ্বজুড়ে এই খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের দূরে রাখায় তিনি দুই বিশ্বনেতার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

 

বেইজিংয়ের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছে এবং শি জিনপিং পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন।

 

একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, মস্কো এবং বেইজিং চাইলে এই সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারত। তারা সেই পথ অবলম্বন না করায় ওয়াশিংটনের জন্য পুরো বিষয়টি সামলানো অনেক সহজ হয়েছে।

 

কূটনৈতিকভাবে তেহরানের সঙ্গে মস্কো এবং বেইজিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মার্কিন সামরিক অভিযানের পর রাশিয়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিল যে, এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

অন্যদিকে, বেইজিং মার্কিন এই পদক্ষেপকে একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে অতীতে কড়া নিন্দা জানিয়েছিল। এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, চীন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা এবং তারা তেহরানকে এমন কিছু পণ্য সরবরাহ করেছে যা সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এমন জটিল বৈরী সমীকরণ থাকা সত্ত্বেও চলমান সংকটে চীনের প্রেসিডেন্ট কোনো ধরনের ভারী অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র ইরানে না পাঠিয়ে শান্তি স্থাপনে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন বলে মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট উদাহরণ দিয়ে বলেন, চীন চাইলে তাদের তেলবাহী জাহাজের সুরক্ষায় বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাঠাতে পারত, যা পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দিকে উসকে দিত; কিন্তু বেইজিং অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

 

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, বেইজিংয়ের অবস্থান সবসময়ই সুসংগঠিত ছিল এবং তারা যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তবে এই বিষয়ে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

- রয়টার্স