শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ না থামালে পুরোপুরি তেলশূন্য হয়ে পড়তাম, ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ না থামালে পুরোপুরি তেলশূন্য হয়ে পড়তাম, ট্রাম্প
ছবি : Collected

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ জ্বালানি সংকট এড়াতে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প খোলা ছিল না।

 

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে এক নজিরবিহীন সংকট তৈরি হতো, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ত গোটা বিশ্বের অর্থনীতির ওপর।

 

সাক্ষাৎকারে পূর্ববর্তী সামরিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখত, তবে এতদিনে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত।

 

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পুরো প্রণালিতে মাইন পুঁতে তা নৌ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হতো। একই সঙ্গে শত শত কোটি ডলার মূল্যের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে বেড়াত।

 

এমন ভীতিকর ও অনিরাপদ পরিস্থিতিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ ওই প্রণালি দিয়ে পারাপারের সাহস করত না। ফলে মাসের পর মাস বিশ্ববাজার জ্বালানি তেল থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

যেসব মার্কিন সমালোচক ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অবস্থান গ্রহণ এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন, তাঁদের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প।

 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আরও কঠোর হওয়ার একমাত্র উপায় ছিল হয়তো আরও দুই বা তিন সপ্তাহ সেখানে গিয়ে লাগাতার বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু সামরিক এই পদক্ষেপে আখেরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লাভ হতো না, বরং হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকত।

 

যতদিন বোমাবর্ষণ চলত, ততদিন ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত অবরুদ্ধই থাকত, যা শেষ পর্যন্ত একটি ভয়াবহ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার জন্ম দিত। ট্রাম্পের এই আশঙ্কার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তেল মজুদের পরিসংখ্যানেও।

 

সরকারি পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, দেশটি বর্তমানে সম্ভাব্য ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বাণিজ্যিক তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ‘কিউশিং’, যেখান থেকে মূলত দেশটির তেলের বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়, সেখানে অপরিশোধিত তেলের মজুদের পরিমাণ ব্যাপক হারে কমে মাত্র দুই কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছে।

 

গত এগারো বছরের ইতিহাসে এটি সর্বনিম্ন মজুদের রেকর্ড। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত মার্কিন কৌশলগত তেল মজুদের পরিমাণও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে বর্তমানে চৌত্রিশ কোটি ব্যারেলে অবস্থান করছে।

 

পরিস্থিতি এতটা সংকটাপন্ন যে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারকে ক্রমাগত সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন।

 

তাঁদের মতে, জুনের শেষ ভাগ থেকে জুলাইয়ের শুরুর দিকে দেশটির তেল মজুদ এমন এক চরম সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে ঘাটতি পূরণের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়বে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনীতি সচল রাখতেই ওয়াশিংটনকে যুদ্ধ থামানোর এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

 

- পার্সটুডে