এই অপ্রত্যাশিত হামলার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শঙ্কা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভিক্টোরিয়ার বিসিএমএ মসজিদে নিয়মিত নামাজ শেষে ইমাম শেখ ইব্রাহিম নিজের গাড়িতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আকস্মিকভাবে তার গাড়ির দরজা জোরপূর্বক খুলে তার ওপর চড়াও হয়। হামলার সময় ওই আক্রমণকারী তীব্র মুসলিমবিদ্বেষী কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে এবং ইমামকে উদ্দেশ্য করে 'নিজের দেশে ফিরে যাও' বলে বারবার চিৎকার করতে থাকে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকে গত আটচল্লিশ ঘণ্টা ধরে তারা ভুক্তভোগী ধর্মীয় নেতার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীর যথাযথ জবাবদিহিতা আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংস্থাটি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই হামলার সমালোচনা করে বলেছে, সমাজের একজন অত্যন্ত সম্মানিত ধর্মীয় নেতাকে এভাবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হামলা চালানো সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য একটি বিষয়।
এটি আমাদের সমাজে দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া মুসলিমবিদ্বেষের এক ভয়াবহ ও নগ্ন বাস্তবতার স্পষ্ট উদাহরণ। এ ধরনের ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, বারবার ঘটতে থাকা এসব ঘটনার ক্ষেত্রে নীরবতা পালনের কোনো সুযোগ নেই।
এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যার বিরুদ্ধে সকলকে একযোগে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে, কানাডার সকল স্তরের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের প্রতি এই মুসলিমবিদ্বেষী সহিংসতার প্রকাশ্য নিন্দা জ্ঞাপন করার এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে এটি একটি পরিকল্পিত ঘৃণামূলক অপরাধ কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে দোষী ব্যক্তিকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর সূত্রমতে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর ইমাম শেখ ইব্রাহিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া, অভিযুক্ত হামলাকারীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা অভিযোগ দায়েরের বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।