শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা করল ইরাক

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা করল ইরাক
ছবি : File Photo

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক কোটি মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সমপরিমাণ, পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরাকভিত্তিক একটি অত্যন্ত সুপরিচিত সশস্ত্র সংগঠন।

 

'ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক' বা সংক্ষেপে আইআরআই নামক কট্টর ইরানপন্থি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সম্প্রতি তাদের নিজস্ব প্রচারমাধ্যমে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ ঘোষণা প্রদান করেছে।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গন, কূটনৈতিক মহল এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল ও চরম উত্তেজনাকর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে এ ধরনের সরাসরি হত্যার হুমকি সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংঘাতময় ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো ওই বিস্তারিত ও কড়া ভাষার বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি 'অপরাধী' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক তাদের বিবৃতিতে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাদের সংগঠনের হাজারো সক্রিয় সদস্য এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা অগুনতি সাধারণ সমর্থকদের নিজস্ব অর্থায়নে ও অনুদানের মাধ্যমে একটি বিশেষ গোপন তহবিল গঠন করা হয়েছে।

 

এই তহবিল থেকেই মূলত এক কোটি ডলারের এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ট্রাম্পকে হত্যার পুরস্কার হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে। বিবৃতিতে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে যে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যে ব্যক্তি, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা যেকোনো প্রতিষ্ঠান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সফলভাবে হত্যা করতে সক্ষম হবে, তাদেরকেই এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার বিনাশর্তে প্রদান করা হবে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, আকস্মিক এই চরমপন্থী ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ঘটে যাওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ-এর এক বিস্তারিত ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ইরাকের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিগত ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে সংঘটিত সেই ঐতিহাসিক ড্রোন হামলার প্রসঙ্গটি টেনে আনেন।

 

ওই হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অত্যন্ত প্রভাবশালী ও অভিজাত শাখা কুদস ফোর্সের তৎকালীন প্রধান, জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানি এবং ইরাকের শক্তিশালী মিলিশিয়া গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফ-এর উপপ্রধান নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিস নিহত হন।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই আলোচিত ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী জোড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে নিজের সরাসরি নির্দেশের কথা পুনরায় অত্যন্ত খোলামেলাভাবে স্বীকার করেন। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের প্রবল ধারণা, হোয়াইট হাউসে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য মন্তব্য ও নিঃসংকোচ স্বীকারোক্তিকে কেন্দ্র করেই মূলত নতুন করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক।

 

আর সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাথার জন্য এই বিপুল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণার মতো একটি চরম ও বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সশস্ত্র ওই সংগঠনটি তাদের দীর্ঘ ও আবেগময় বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবেই নয়, বরং 'শিশু ও বিজ্ঞানীদের নির্মম হত্যাকারী' বলে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় আক্রমণ ও সমালোচনা করেছে।

 

তারা তাদের বিবৃতিতে দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছে যে, বিশ্বের সমস্ত স্বাধীনতাকামী ও বিবেকবান মানুষ এই জঘন্য হত্যাকারীকে আন্তর্জাতিক বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য তাদের নিরলস ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

 

সংগঠনটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে একটি অত্যন্ত কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে যে, ইতিহাসের কোনো স্বৈরাচারী শাসকই পৃথিবীতে কখনোই শান্তিতে বসবাস করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

 

তাদের মতে, সম্মানিত এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের মনের গভীরে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা থেকে ওই অপরাধী পৃথিবীর কোথাও কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না। বিবৃতির একেবারে শেষাংশে এসে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক অত্যন্ত আবেগী অথচ চরম আক্রমণাত্মক ভাষায় তাদের ভবিষ্যৎ সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছে।

 

সংগঠনটি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছে যে, তাদের নিহত শীর্ষ নেতাদের হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ গ্রহণ করা তাদের সংগঠনের প্রতিটি সাধারণ যোদ্ধার জন্য একটি 'বাধ্যতামূলক ধর্মীয় ও আদর্শিক অঙ্গীকার'।

 

তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, শহীদদের পবিত্র ও নির্দোষ রক্ত একটি ভয়ংকর অভিশাপ হয়ে অহংকারী ও দাম্ভিক শাসকদের সিংহাসনকে এমনভাবে প্রবল বেগে কাঁপিয়ে দেবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত পশ্চিমা আগ্রাসী শক্তি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়ে ফিরে যায় এবং তাদের স্বৈরাচারের সমস্ত মজবুত দুর্গগুলো চিরতরে ধুলিসাৎ হয়ে যায়।

 

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে এই খবরটি প্রচার করছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাকের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নতুন করে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

 

একই সঙ্গে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই প্রকাশ্য হুমকির পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে।

 

আমার দেশ