এমন এক সময়ে ট্রাম্প এই ধারণাটি সামনে আনলেন, যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তার শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা সীমিত করতে পারে বলে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত তার শুল্ক নীতির পক্ষে জনসমর্থন জোরালো করার চেষ্টা করছেন।
রবিবার এক সামাজিক মাধ্যম বার্তায় ট্রাম্প শুল্ক নীতির বিরোধীদের "বোকা" বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, "দেশ ট্রিলিয়ন (লক্ষ কোটি) ডলার আয় করছে এবং শীঘ্রই আমাদের ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিপুল জাতীয় ঋণ পরিশোধ করা শুরু করবে।" তিনি সরাসরি প্রস্তাব করেন, "(উচ্চ আয়ের মানুষ বাদে!) প্রত্যেককে কমপক্ষে ২,০০০ ডলার লভ্যাংশ দেওয়া হবে।"
তবে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় বন্টন করা হবে, সে সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা দেয়নি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবিসি নিউজের এক সাক্ষাৎকারে কর হ্রাসের ইঙ্গিত দিলেও এই প্রস্তাবিত লভ্যাংশ সম্পর্কে প্রেসিডেন্টের সাথে তার কোনো কথা হয়নি বলে জানান। বেসেন্ট বলেন, "২,০০০ ডলারের লভ্যাংশ বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন উপায়ে আসতে পারে," যেমন- বকশিশ (টিপস), অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা (ওভারটাইম) বা সামাজিক সুরক্ষার ওপর থেকে কর বাতিল করার মাধ্যমে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৯ শতাংশ মানুষ উচ্চ আয়ের শ্রেণিভুক্ত। সেই হিসাবে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ বা প্রায় ২৭ কোটি নাগরিক এই প্রস্তাবিত লভ্যাংশের জন্য যোগ্য হতে পারেন। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০২৬ সালে মার্কিন ফেডারেল বাজেটে কয়েকশ বিলিয়ন ডলারের নতুন চাপ সৃষ্টি হবে।
ইউএস কমিটি ফর এ রেসপন্সিবল ফেডারেল বাজেটের তথ্যমতে, ২০২৫ অর্থবছরে শুল্ক খাত থেকে প্রায় ১৯৫ বিলিয়ন ডলার সংগৃহীত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি। এই বিপুল রাজস্ব সত্ত্বেও, দেশটির বাজেট বর্তমানে ৩৭.৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণের চাপে জর্জরিত, যা দেশটির মোট জিডিপির ১২২ শতাংশেরও বেশি।
শুল্ক সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে একটি উত্তাল সপ্তাহ পার করার পরই ট্রাম্প এই আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিলেন। গত সপ্তাহে, জরুরি ক্ষমতার অধীনে প্রতিদানমূলক শুল্ক আরোপের বিষয়ে ট্রাম্পের কর্তৃত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সন্দেহ প্রকাশ করে। এর আগে নিম্ন আদালতগুলোও রায় দিয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপে তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। ট্রাম্প অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করা দেশের জন্য একটি "বিপর্যয়" হবে। উল্লেখ্য, এই আক্রমনাত্মক শুল্ক নীতিই ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রীয় স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।