অবশেষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অভিযুক্তকে আদালতের মুখোমুখি করা হয়েছে। ওয়েস্টমিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩৮ বছর বয়সী এই সাবেক সেনার শুনানিকালে বিচারক তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। অভিযুক্ত রবার্ট জেমস পারকিস যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারের টিডওয়ার্থ এলাকার বাসিন্দা। গত ৬ নভেম্বর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০১২ সালে কেনিয়ার নানইউকি শহরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকায় ২১ বছর বয়সী অ্যাগনেস ওয়ানজিরু নামের এক স্থানীয় তরুণী নির্মমভাবে নিহত হন। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচার কার্যের জন্য কেনিয়া সরকার অভিযুক্ত পারকিসকে তাদের দেশে প্রত্যর্পণের বা ফেরত পাঠানোর জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছে।
লন্ডনের আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন। তাঁরা আদালতকে জানান যে, অভিযুক্ত পারকিস তার এক সহকর্মী সেনা সদস্যের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে ঘাঁটির কাছের একটি হোটেলে বিনোদনের সময় তিনি ওয়ানজিরুকে হত্যা করেন।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, তরুণী মা অ্যাগনেস ওয়ানজিরু নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন মাস পর ওই একই হোটেলের একটি সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর সময় তিনি মাত্র পাঁচ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর জননী ছিলেন। ২০১৯ সালে সম্পন্ন হওয়া একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ইনকোয়েস্টের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, ওয়ানজিরুকে বেআইনিভাবে এবং নৃশংস কায়দায় হত্যা করা হয়েছে।
ফরেনসিক রিপোর্টে তাঁর বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছিল। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য এক বা একাধিক ব্রিটিশ সেনাকে সরাসরি দায়ী করা হয়, যা তখন থেকেই কেনিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল। অন্যদিকে, আদালতে পারকিসের পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে, তাদের মক্কেল তাঁর বিরুদ্ধে আনা হত্যাসহ সকল অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন।
তিনি কেনিয়ায় প্রত্যর্পণের আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর আগে, সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা তাকে আটক করতে সক্ষম হন। অ্যাগনেস ওয়ানজিরুর পরিবার, বিশেষ করে তার এতিম সন্তান এবং কেনিয়ার বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দীর্ঘদিনের নিরলস আন্দোলনের ফলেই ধামাচাপা পড়ে যাওয়া এই মামলাটি পুনরায় সচল হয়েছে।
২০১৮ সালে এই মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর লন্ডনের আদালতে অভিযুক্তের জামিন নামঞ্জুর হওয়ার ঘটনাটি ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।