২৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা ৭টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে কলম্বিয়া জুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয়, দীর্ঘ বিলম্ব এবং অসংখ্য ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, এয়ারবাসের পাঠানো কারিগরি নির্দেশনা বা সফটওয়্যার হালনাগাদ সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ৩২০ সিরিজের প্রতিটি বিমানকে বাধ্যতামূলকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে বা মেইনটেন্যান্স বেসে অবস্থান করতে হবে।
অ্যারোসিভিল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা শতভাগ এবং দ্রুততম সময়ে পালন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সরকারের সমন্বয়ে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করা যায় দেশটির অন্যতম প্রধান এয়ারলাইন ‘অ্যাভিয়ানকা’-র পদক্ষেপে, যারা ইতোমধ্যেই তাদের এ৩২০ বহরের ৭০ শতাংশেরও বেশি বিমান বসিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বর্তমানে প্রতিটি বিমানের সফটওয়্যার আপডেটের বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করছে। এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে দ্রুততম সময়ে এই ত্রুটি সারিয়ে বিমানগুলোকে পুনরায় যাত্রীসেবায় ফিরিয়ে আনা যায়।
তবে এই রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়াটি কতক্ষণ চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি; প্রতিটি বিমানের আপডেট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপরই সেটির উড্ডয়ন নির্ভর করছে। অ্যারোসিভিল জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অবহিত করবে।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক-উভয় রুটের যাত্রীরাই বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। সম্ভাব্য এই সংকট মোকাবিলায় অ্যারোসিভিল যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের প্রবল সম্ভাবনা থাকায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওয়ানা হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যদি এই পরিস্থিতির কারণে কোনো ফ্লাইট বাতিল হয়, তবে যাত্রীরা টিকিটের পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখেন। অথবা, কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই পরবর্তী লভ্য ফ্লাইটে তাদের রি-বুকিং বা পুনরায় আসন সংরক্ষণের সুযোগ দিতে হবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে নেওয়া এই পদক্ষেপ সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি করলেও ভবিষ্যতের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এটি অপরিহার্য বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।