একদিকে যারা তার সঙ্গে জোট বাঁধতে ইচ্ছুক এবং অন্যদিকে যারা তাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন। এই বিভাজনের ফলে রাজনৈতিক ‘সেন্টার’ বা মধ্যমপন্থি ভোটাররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। পরিসংখ্যান ও জনসমর্থনের চিত্র সিফ্রাস ও কনসেপ্টোস (Cifras y Conceptos) পরিচালিত সাম্প্রতিক জনমত জরিপ (নভেম্বর ২০২৫) অনুযায়ী, নির্বাচনের মাঠ এখনো ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।
সিদ্ধান্তহীন ভোটার: প্রায় ৬২% ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা কাকে ভোট দেবেন। ডানপন্থি অবস্থান: আবেলর্দো দে লা এসপ্রিয়েলা তার নিজ বলয়ে ১৭% সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন। তবে ভিকি ডেভিলা এবং মারিয়া ফার্নান্দা ক্যাবালের মতো নেতাদের নেতিবাচক রেটিং বা ‘আনফেভারেবল রেটিং’ যথাক্রমে ৫১% ও ৪৯%, যা ডানপন্থি জোটের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
বাম ও মধ্যমপন্থি অবস্থান: বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর ‘হিস্টোরিক প্যাক্ট’ জোটের প্রতি ২১% ভোটারের সমর্থন রয়েছে এবং পেট্রোর ব্যক্তিগত অ্যাপ্রুভাল রেটিং ৪৪%। অন্যদিকে, মধ্যমপন্থি নেতা সার্জিও ফাজার্দো তার গ্রুপে ২৪% সমর্থন পাচ্ছেন। এসপ্রিয়েলা বিরোধী জোট ডানপন্থি শিবিরের একটি বড় অংশ আবেলর্দো দে লা এসপ্রিয়েলার সঙ্গে যেকোনো ধরনের জোটের বিপক্ষে।
এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাংবাদিক থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ভিকি ডেভিলা। যদিও এক বছর আগে তিনি জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু এসপ্রিয়েলার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি এবং তাকে ‘চ্যাভিজমের’ সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ তার গতি কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সার্জিও ফাজার্দো এবং আনিবাল গ্যাভিরিয়ার মতো অভিজ্ঞ নেতারাও এই আইনজীবীর সঙ্গে জোটে যেতে নারাজ।
ফাজার্দো ২০১৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ৩ লাখ ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তাই এবার তিনি এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন। এসপ্রিয়েলা পন্থি ও প্রবাসী সমর্থন অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক সেন্টারের একাংশ এবং কনজারভেটিভ পার্টির এফ্রাইন সেপেদার মতো নেতারা এসপ্রিয়েলার সঙ্গে জোট বাঁধার পক্ষে। এছাড়া উত্তর ক্যারোলিনায় বসবাসরত কলম্বিয়ান প্রবাসীদের মতো ‘ল্যাটিনো’ গোষ্ঠীগুলোও তাকে সমর্থন দিচ্ছে।
প্রবাসীদের সংগঠন ‘ডিফেন্ডারস অফ দ্য হোমল্যান্ড’-এর তথ্যমতে, গত ২০ বছরে দেশে না ফিরলেও অনেকেই এসপ্রিয়েলার পক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। তাদের মতে, পেট্রো সরকারকে হঠাতে এসপ্রিয়েলাই একমাত্র ভরসা। ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক বিন্যাস ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক পরিসংখ্যানেও ভোটের মেরুকরণ স্পষ্ট। আফ্রো-কলম্বিয়ান এবং আদিবাসী অধ্যুষিত পেরিফেরাল অঞ্চলগুলোতে বামপন্থিদের সমর্থন এখনো অটুট রয়েছে।
অন্যদিকে, অ্যান্টিওকিয়া এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ডানপন্থিদের আধিপত্য বজায় থাকলেও সেখানে বিভাজন তীব্র। মধ্যবিত্ত ও শহুরে ভোটারদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে বোগোটার মতো মেগাসিটিগুলোতে, মধ্যমপন্থি বা ‘সেন্টার’-এর দিকে ঝুঁকছেন। মার্চ মাসে অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃদলীয় পরামর্শ বা ‘কনসালটেশন’ হতে যাচ্ছে এই বিভাজন দূর করার বা চূড়ান্ত করার প্রধান ক্ষেত্র। বিশ্লেষক ক্যামিলো গঞ্জালেজের মতে, এসপ্রিয়েলা ডানপন্থি ‘আউটসাইডার’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও, ফাজার্দোর মতো মধ্যমপন্থি নেতারাই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করতে পারেন।