উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মানুষের জানার আগ্রহ এবং সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের এক অনন্য দলিল হয়ে উঠেছে এই তালিকা। তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা চার্লি কার্কের নিবন্ধটি সারা বছরে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ বার পড়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে এক সমাবেশে যোগ দেওয়ার সময় তিনি গুপ্তহত্যার শিকার হন।
উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কার্কের মৃত্যুর পরদিন তাঁর নিবন্ধটি পড়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন পাঠক। ওই সময়ে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ১৭০ বারের বেশি তাঁর সম্পর্কে খোঁজা হয়েছে, যার প্রায় ৪৩ শতাংশ পাঠকই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের। প্রগতিশীল কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্য পরিচিত এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যু বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
প্রতি বছরের মতো এবারও ‘২০২৫ সালের মৃত্যু’ (Deaths in 2025) বিষয়ক নিবন্ধটি তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সারা বিশ্বে আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত খ্যাতনামা ব্যক্তিদের প্রয়াণ মানুষকে বারবার এই পাতায় নিয়ে এসেছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার এড গেইন। রাজনীতিও এবার পাঠকদের আগ্রহের বড় অংশ জুড়ে ছিল। জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিবন্ধটি চতুর্থ সর্বোচ্চ পঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, নভেম্বরে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে নির্বাচিত ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ জোহরান মামদানির নিবন্ধটিও সপ্তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে, যা মার্কিন রাজনীতির পালাবদলের প্রতি মানুষের আগ্রহের প্রমাণ দেয়। ধর্মীয় ও বিনোদন জগতের বড় বড় ঘটনাও উইকিপিডিয়ার ট্রাফিক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর এপ্রিলে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যু এবং পরবর্তীতে পোপ লিও চতুর্দশ-এর দায়িত্ব গ্রহণ ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়।
নতুন পোপের নাম ঘোষণার পর উইকিমিডিয়ার সমস্ত প্রকল্পে ট্রাফিক সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে সেকেন্ডে প্রায় ৮ লক্ষে পৌঁছেছিল। পোপ ফ্রান্সিস নিজেও তালিকার ১১তম স্থানে রয়েছেন। এছাড়া জুলাই মাসে ৭৬ বছর বয়সে মেটাল কিংবদন্তি ওজি অসবোর্নের মৃত্যু বিনোদন জগতকে শোকস্তব্ধ করে দেয়, যা তাঁকে তালিকার নবম স্থানে নিয়ে এসেছে। বিনোদন জগতের মধ্যে ‘সিনারস’, ‘সুপারম্যান’ এবং ‘থান্ডারবোল্টস’-এর মতো ২০২৫ সালের চলচ্চিত্রগুলোও পাঠকদের অনুসন্ধানের তালিকায় ওপরের দিকেই ছিল।
এছাড়া ইলন মাস্ক, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং জেডি ভ্যান্সের মতো ব্যক্তিত্বরাও সেরা ২০-এ জায়গা করে নিয়েছেন। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা অনুশা আলিখান বলেন, এই তালিকা প্রমাণ করে যে, আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করা ঘটনাগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য, প্রেক্ষাপট এবং নির্ভরযোগ্য উৎসের জন্য মানুষ উইকিপিডিয়ার ওপর কতটা গভীরভাবে আস্থাশীল।