তিনি পেত্রোর আলোচনার ভঙ্গি ও আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অদূর ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসে তার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই ফোনালাপের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোসা ভিলাভিসেনসিও দুই নেতার আসন্ন বৈঠকের সময়সূচি ও রূপরেখা নির্ধারণের কাজ করছেন।
ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ল্যাটিন আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে বিদ্যমান ‘মতভেদ’ বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
পেত্রো একটি নতুন কৌশলগত “আমেরিকান জোট” গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন, যা ল্যাটিন আমেরিকার বিপুল স্বচ্ছ শক্তি বা ক্লিন এনার্জি সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ল্যাটিন আমেরিকার এই নবায়নযোগ্য শক্তি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চাহিদার শতভাগ পূরণ করতে সক্ষম হবে এবং একইসঙ্গে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পেত্রো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ল্যাটিন আমেরিকাকে যদি কেবল খনিজ তেলের উৎস হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে এবং বিশ্বকে বর্বরতা বা এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই সংকট এড়াতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন, যা ল্যাটিন আমেরিকার স্বচ্ছ শক্তি খাতকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং উভয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প পেত্রোকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিলেন, যা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বরাবরই দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এসেছেন। তবে বুধবারের এই ফোনালাপ এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বৈঠকের আমন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, উভয় নেতাই অতীতের তিক্ততা ভুলে কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যেতে আগ্রহী।