বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এই মামলাটি করা হয়। বাদীর পক্ষের আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত বাদীর অভিযোগ পর্যালোচনা করেছেন এবং অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
মামলার আরজিতে বা বাদীপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, তানজিন তিশা বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত মডেল, অভিনেত্রী ও টিভি উপস্থাপিকা হিসেবে মিডিয়া শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে সুপরিচিত। এই পরিচিতির সূত্র ধরেই তিনি 'অ্যাপোনিয়ার' নামক একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজের সাথে যুক্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তানজিন তিশা ওই পেজ থেকে বিভিন্ন শাড়ি দেখেন এবং সেখান থেকে একটি শাড়ি পছন্দ করেন, যার বাজার মূল্য ছিল ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। পরবর্তীতে শাড়িটি তার বাসভবনে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়। শাড়িটি গ্রহণের পর তানজিন তিশা বিভিন্ন ভয়েস মেসেজ এবং টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি শাড়িটি পরিধান করে ছবি তুলে সেই অনলাইন পেজটির প্রচারণায় (প্রমোশন) সহায়তা করবেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, পেজ কর্তৃপক্ষ শাড়িটি পরিধান করে পেজের প্রচারণার জন্য অভিনেত্রীকে বারবার অনুরোধ করেন। গত ১৮ জানুয়ারি তানজিন তিশা শাড়িটি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, শাড়িটি গ্রহণের পর প্রায় দশ মাস অতিক্রান্ত হলেও তিনি সেই শাড়ি পরিধান করেননি বা পেজের পক্ষে কোনো প্রচারণামূলক কাজেও অংশ নেননি।
বাদীর প্রধান অভিযোগ হলো, গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তানজিন তিশা পেজ কর্তৃপক্ষের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সাথে কথোপকথন এড়িয়ে চলেন। এর মাধ্যমে তানজিন তিশা ব্যবসায়িক প্রচারণার উদ্দেশ্যে নেওয়া শাড়ির বিষয়ে প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।