সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্ধুর বিয়েতে ভাইরাল সেই নাচের ভিডিও বদলে দিল আয়েশার ভাগ্য

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১১ পিএম

বন্ধুর বিয়েতে ভাইরাল সেই নাচের ভিডিও বদলে দিল আয়েশার ভাগ্য
ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে খ্যাতি অনেক সময় নিছক কাকতালীয় ঘটনার মাধ্যমে আসে, আর পাকিস্তানের তরুণী আয়েশা আজহার তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একটি ঘরোয়া বিয়ের অনুষ্ঠানে লতা মঙ্গেশকরের কালজয়ী গান ‘মেরা দিল ইয়ে পুকারে আজা’-র রিমিক্স সংস্করণের তালে নেচে তিনি রাতারাতি ইন্টারনেট সেনসেশনে পরিণত হয়েছিলেন। সেই আকস্মিক জনপ্রিয়তাই এখন তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

 

সাধারণ এক কিশোরী থেকে তারকা বনে যাওয়া আয়েশা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি এই খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে পেশাদার মডেলিং জগতে ক্যারিয়ার গড়তে চান। সবুজ সালোয়ার কামিজ পরে তার সেই সাবলীল ও মোহনীয় নাচের ভিডিওটি কেবল পাকিস্তানের সীমানায় আবদ্ধ থাকেনি, বরং ভারত ও বাংলাদেশেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

 

ভিডিওটি এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছিল যে, বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত থেকে শুরু করে বহু শীর্ষস্থানীয় তারকা তার সেই আইকনিক নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করেছিলেন। ইন্টারনেটের বদৌলতে পাওয়া এই পরিচিতি আয়েশার জন্য শোবিজ অঙ্গনের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় টকশোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আয়েশা তার বর্তমান জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রাম নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

 

সেখানে তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ার এই পরিচিতিকে তিনি ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চান এবং নিজেকে একজন পেশাদার মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখছেন। ভাইরাল হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন হাউস থেকে তার কাছে কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে। তবে খ্যাতির জৌলুসের আড়ালে আয়েশার ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা চড়াই-উতরাই। বিশেষ করে নিজের শিক্ষাজীবনের সংগ্রাম নিয়ে তিনি কোনো রাখঢাক করেননি।

 

টেলিভিশন অনুষ্ঠানটিতে তিনি অত্যন্ত সততার সাথে স্বীকার করেন যে, পুঁথিগত বিদ্যায় তিনি খুব একটা পারদর্শী ছিলেন না। মাধ্যমিক বা ম্যাট্রিকুলেশন পাস করতে তাকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তিনি জানান, পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না হওয়ায় তাকে তিনবার অকৃতকার্য হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

 

আয়েশার ভাষায়, পড়াশোনায় তিনি খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না, কিন্তু সহপাঠী ও বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় নিয়মিত ক্লাসে যেতেন এবং শেষ পর্যন্ত বহু কষ্টে তিনি মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে সক্ষম হন। পড়াশোনার সেই কঠিন দিনগুলো পেছনে ফেলে আয়েশা এখন নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

 

বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে নিছক আনন্দের ছলে করা একটি নাচ যে তার জীবনের গতিপথ এবং ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাকে এভাবে বদলে দেবে, তা ছিল তার কল্পনারও অতীত। ডিজিটাল দুনিয়ার এই তারকা এখন অতীতের ব্যর্থতা ভুলে মডেলিংকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শোবিজ জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।