টিআরপি-র ওঠানামা বা গল্পের পালাবদলে তাঁর জনপ্রিয়তায় কখনো ভাটা পড়েনি। কিন্তু হঠাৎ করেই ছোটপর্দার এই উজ্জ্বল নক্ষত্র নিজেকে আড়ালে সরিয়ে নিয়েছেন। গত আড়াই বছর ধরে কোনো মেগা ধারাবাহিকে তাঁকে আর দেখা যাচ্ছে না। টলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন পাড়ি জমিয়েছেন ভারতের বিনোদন জগতের প্রাণকেন্দ্র মুম্বাইয়ে। অভিনেত্রীর এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত এবং অন্তরালে চলে যাওয়া নিয়ে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে দানা বেঁধেছে নানা প্রশ্ন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, এই দীর্ঘ বিরতি বা সরে দাঁড়ানোর পেছনে কোনো অভিমান নয়, বরং নিজের কাজের প্রতি একধরণের অতৃপ্তি এবং একঘেয়েমি কাজ করেছে। নিজের ক্যারিয়ারের এই বাঁকবদল নিয়ে দেবযানী চট্টোপাধ্যায় জানান, দীর্ঘদিন একই ধরণের কাজ করতে করতে তিনি ক্লান্ত। তিনি বলেন, “প্রায় আড়াই বছর হলো আমি ধারাবাহিকে অভিনয় করা ছেড়ে দিয়েছি। সত্যি বলতে, কাজের মধ্যে একধরণের একঘেয়েমি চলে এসেছিল।
তাই সচেতনভাবেই মেগাতে আর অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এখন নতুন ধরণের কাজের অপেক্ষায় আছি, যা আমাকে মানসিকভাবে তৃপ্তি দেবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমান সময়ের ছোটপর্দার গল্প বা চিত্রনাট্যের সঙ্গে তিনি নিজেকে আর মেলাতে পারছিলেন না। তাঁর মনে হয়েছে, টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর নতুন করে আর কিছু দেওয়ার বা পাওয়ার নেই।
করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ে বিনোদন জগতের সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। দর্শকদের রুচি এবং দেখার মাধ্যমেও এসেছে আমূল বদল। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেবযানী এখন ওয়েব সিরিজ বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দিকেই নিজের মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন। নতুন মাধ্যমের এই কাজের সুযোগ খুঁজতেই তিনি বর্তমানে মুম্বাইয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন চরিত্রের জন্য অডিশন বা বাছাইপর্বে অংশ নিচ্ছেন।
তাঁর মতে, মুম্বাইয়ের কাজের ধরন এবং পরিধি কলকাতার চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন, যা তাঁকে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তবে মুম্বাইয়ে থিতু হলেও কলকাতার সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান এখনো অটুট। অভিনয়ের পাশাপাশি দেবযানী একজন সফল উদ্যোক্তাও। কলকাতায় তাঁর নিজস্ব একটি পোশাকের বুটিক রয়েছে। ব্যবসার তদারকি এবং অন্যান্য প্রয়োজনে তাই তাঁকে প্রায়শই কলকাতায় যাতায়াত করতে হয়।
ছোটপর্দার চেনা গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর পরিসরে নিজেকে মেলে ধরার এই সাহসী যাত্রায় দেবযানী চট্টোপাধ্যায় কতটা সফল হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তরা আশা করছেন, খুব শীঘ্রই তাঁদের প্রিয় অভিনেত্রীকে ভিন্ন কোনো লুকে, ভিন্ন কোনো মাধ্যমে আবার স্বমহিমায় দেখতে পাবেন।