সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারীর ওপর হেনস্তার প্রতিবাদে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সরব বার্তা- ‘আমার শরীর, আমার সম্পদ’

আর এন এস বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:৫৯ পিএম

নারীর ওপর হেনস্তার প্রতিবাদে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সরব বার্তা- ‘আমার শরীর, আমার সম্পদ’
ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন নারীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান সামাজিক হয়রানি এবং ইভ টিজিংয়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে তিনি জনসমক্ষে নারীদের নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে নিজের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেছেন।

 

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই তারকা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো নারীর পোশাক, বাহ্যিক সাজসজ্জা কিংবা জীবনযাপনের ধরন কখনোই তাকে হেনস্তা করার বা তার ওপর কটূক্তি করার বৈধতা দিতে পারে না। বরং তিনি নারীদের আহ্বান জানিয়েছেন মাথা উঁচু করে বাঁচতে এবং নিজের অধিকার আদায়ে ভীতি ঝেড়ে ফেলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে।

 

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক প্রসাধনী সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আয়োজিত এক গ্ল্যামারাস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের নিরাপত্তা এবং রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় অহেতুক হয়রানি বা ‘ক্যাটকলিং’ মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে তার কাছে জানতে চান। এই প্রশ্নের জবাবে ঐশ্বরিয়া কোনো রাখঢাক না রেখেই অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নারীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পরামর্শ দেন।

 

তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে কোনো বখাটে বা উত্যক্তকারীর মুখোমুখি হলে চোখ নিচু করে বা না দেখার ভান করে চলে যাওয়া কোনো সমাধান নয়। বরং তিনি নারীদের পরামর্শ দেন, ‘‘অপর প্রান্তের মানুষটির চোখের দিকে না তাকালেই আপনি পার পেয়ে যাবেন, এমনটা ভাবা ভুল। মোকাবিলা করতে হলে হেনস্তাকারীর চোখের দিকে সোজাসুজি তাকাতে শিখুন এবং মেরুদণ্ড সোজা রেখে মাথা উঁচু করে হাঁটুন।’’

 

ঐশ্বরিয়া রাই তার বক্তব্যে নারীর আত্মসম্মানবোধ এবং নিজের শরীরের ওপর নিজের অধিকারের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক বার্তা দিয়ে বলেন, প্রতিটি নারীরই এই মন্ত্রে বিশ্বাসী হওয়া উচিত যে- ‘আমার শরীর, আমার সম্পদ।’ তার মতে, একজন নারীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার নিজের মূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকা। তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন, নিজের মূল্য নিয়ে কখনোই আপস করবেন না এবং মনে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রাখবেন না।

 

সমাজ কী ভাবল বা কে কী বলল, তার চেয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা অনেক বেশি জরুরি। প্রয়োজনে নিজের সম্মান রক্ষার্থে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে নারীদের একাই উঠে দাঁড়াতে হবে এবং লড়তে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐশ্বরিয়ার এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

 

অনেকেই মনে করছেন, একজন গ্লোবাল আইকনের কাছ থেকে এমন ক্ষমতায়নমূলক বার্তা নারীদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সাধারণত সেলিব্রেটিরা স্পর্শকাতর সামাজিক ইস্যুগুলো এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন, কিন্তু ঐশ্বরিয়া রাইয়ের এই স্পষ্টলভাষী মনোভাব প্রমাণ করে যে তিনি কেবল পর্দার তারকা নন, বরং বাস্তব জীবনেও নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।

 

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন কর্মক্ষেত্রে ও জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঐশ্বরিয়ার এই বার্তাটি মূলত ভিক্টিম ব্লেমিং বা দোষারোপের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক চপেটাঘাত। নারীর দিকে আঙুল না তুলে বরং অপরাধীর চোখের দিকে তাকানোর এই আহ্বান সমাজে নারীর অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।