সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘তারিফা’-র দৃশ্যধারণের সময় ব্যবহৃত একটি পোশাক তাঁকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত ও আড়ষ্ট করে তুলেছিল যে, তিনি নিজেকে সেই মুহূর্তে অত্যন্ত অসহায় মনে করতে শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই অজানা অধ্যায় উন্মোচন করেছেন। স্বরা ভাস্কর জানান, সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে সর্বদা গ্ল্যামারাস বা আকর্ষণীয় লুকে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল।
বিশেষ করে ‘তারিফা’ গানটির দৃশ্যায়নের জন্য তাঁকে একটি সাঁতারের পোশাক বা সুইমস্যুট পরতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিনেত্রীর দাবি অনুযায়ী, ওই পোশাকটি এতটাই সংক্ষিপ্ত এবং খোলামেলা ছিল যে, সেটি পরার পর তাঁর মনে হচ্ছিল তিনি যেন প্রায় ‘অর্ধনগ্ন’ অবস্থায় রয়েছেন। পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে পরিচালকের নির্দেশ ও চরিত্রের দাবি মেটানো তাঁর দায়িত্ব ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গায় তিনি প্রচণ্ড লজ্জাবোধ করছিলেন।
গ্ল্যামারাস দেখানোর প্রবল চাপ এবং একইসাথে ওজন কমানোর মানসিক দুশ্চিন্তা-সব মিলিয়ে শুটিংয়ের সেই দিনগুলো তাঁর জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সেটের লোকজনের সামনে নিজের সম্ভ্রম ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে অভিনেত্রী এক ভিন্ন ও করুণ পন্থার আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি জানান, মেকআপ ভ্যান বা ভ্যানিটি ভ্যান থেকে প্রস্তুত হয়ে শুটিং ফ্লোরে যাওয়ার সময়টুকুতে তিনি নিজেকে আপাদমস্তক তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে রাখতেন।
ক্যামেরার সামনে সাহসী লুকে ধরা দিলেও, শটের বাইরের সময়টুকুতে তিনি তোয়ালের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন, যাতে লোকচক্ষুর সামনে তাঁকে বিব্রত হতে না হয়। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, পর্দার সামনে একজন শিল্পীকে যতটা আত্মবিশ্বাসী ও সাবলীল মনে হয়, অনেক সময় পর্দার পেছনে তাঁকে ঠিক ততটাই মানসিক ধকল সইতে হয়। উল্লেখ্য, ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ সিনেমাটি চারজন নারীর বন্ধুত্ব ও জীবনযাপনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছিল, যেখানে আধুনিকতা ও সাহসিকতার ছাপ ছিল স্পষ্ট।
ওই গানে স্বরার সহ-অভিনেত্রী হিসেবে কারিনা কাপুর খান এবং সোনম কাপুরও প্রায় একই ধরনের সাহসী ও আধুনিক পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে পেশাগতভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও, স্বরার ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, সহকর্মীরা সাবলীল থাকলেও তিনি নিজের পোশাক নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগেছিলেন।
বলিউডের মতো বিশাল ও প্রতিযোগিতামূলক ইন্ডাস্ট্রিতে একজন অভিনেত্রীকে প্রতিনিয়ত যে ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়, স্বরা ভাস্করের এই স্বীকারোক্তি তারই এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।