রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিজেদের তেল শোধনাগারেই আঘাত হানল রুশ ক্ষেপণাস্ত্র

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিজেদের তেল শোধনাগারেই আঘাত হানল রুশ ক্ষেপণাস্ত্র
ছবি : Collected

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলার পর রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে মস্কোর আকাশে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।

 

এই আকস্মিক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে রাশিয়ার নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিজেদেরই একটি তেল সংরক্ষণাগারে আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারদিকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নতুন করে উন্মোচন করেছে। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে মস্কোর রাস্তায় চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের চিত্র ফুটে উঠেছে।

 

ব্যস্ত মহাসড়কে সাধারণ যানবাহন চলাচলের মধ্যেই রুশ সেনাদের কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। একই সময়ে আতঙ্কে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে দিগ্বিদিক ছুটতে দেখা যায়।

 

মূলত ইউক্রেন তাদের সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে একসঙ্গে বহু ড্রোন পাঠিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রচণ্ড চাপের মুখে ফেলে দেয়, যাতে সব লক্ষ্যবস্তু একসাথে ধ্বংস করা সম্ভব না হয়।

 

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এই ঘটনাটিকে রাশিয়ার জন্য আত্মঘাতী গোল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার পুরোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব সময় শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়, অন্যদিকে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে তাদের আক্রমণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে।

 

আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা রাশিয়ার এই সামরিক প্রতিক্রিয়াকে অত্যন্ত অগোছালো ও অপেশাদার বলে মন্তব্য করেছেন। ম্যাকেনজি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেসের বিশ্লেষকদের মতে, ব্যস্ত সড়কে সামরিক অস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা রুশ কর্তৃপক্ষের চরম দুর্বলতার প্রকাশ।

 

লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক থমাস উইথিংটনের মতে, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ মিসাইল মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

 

আধুনিক ড্রোনের মতো ক্ষুদ্র ও দ্রুতগামী লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য এটি মোটেও উপযুক্ত নয়। এছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া আধুনিক প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারছে না, যা তাদের নতুন ধরনের ড্রোন হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতাকে আরও সীমিত করে ফেলেছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার এবং সামরিক স্থাপনাগুলোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। এই হামলার প্রভাব এতটাই তীব্র যে, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং মস্কোর মতো রাশিয়ার বৃহত্তম শহরগুলোতেও যুদ্ধের ভয়াবহতা পৌঁছে গেছে।

 

এমনকি ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কোয়ারে বিজয় দিবসের ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজও সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

বর্তমান অপারেশনাল পরিস্থিতির কারণে রাশিয়ার সামনে সব সামরিক বিকল্পই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, এবং রুশ সামরিক পরিকল্পনাকারীদের এখন সম্ভাব্য সবচেয়ে কম ক্ষতিকর সমাধানটি বেছে নেওয়ার মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

 

- সিএনএন