রোববার, ২১ জুন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ খবরটি প্রকাশ করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
চুক্তির শর্তাবলি নিখুঁতভাবে পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন তদারকি এবং আলোচনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ দলও তৈরি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এই দীর্ঘ ও টেকসই চুক্তির বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক বলে উল্লেখ করে কাতার জানিয়েছে, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোত্তম পথ হলো সংলাপ এবং নিরবচ্ছিন্ন কূটনীতি।
পাকিস্তানসহ অন্যান্য অংশীদারদের সাথে নিয়ে একটি ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে কাতার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসিস জানান, নানা ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সুইজারল্যান্ড এবং ইরানের মধ্যে গভীর আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
এই পারস্পরিক বিশ্বাস মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কূটনৈতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর শুক্রবার থেকেই সুইজারল্যান্ডে এই শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত এবং এর জেরে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের আকস্মিক ঘোষণায় উদ্ভূত চরম উত্তেজনার কারণে বৈঠকটি বিলম্বিত হয়।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার তীব্র প্রতিবাদ হিসেবে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কৌশলগত নৌপথ বন্ধ করে দেয়। তেহরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নবস্বাক্ষরিত চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক কড়া বিবৃতিতে খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই সামরিক বাহিনীটি এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।