মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের ক্ষতি, তথ্য গোপনের অভিযোগ জেলেনস্কির দপ্তরের বিরুদ্ধে

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম

ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের ক্ষতি, তথ্য গোপনের অভিযোগ জেলেনস্কির দপ্তরের বিরুদ্ধে
ছবি: RT

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দপ্তরের বিরুদ্ধে দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক রুশ হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র গোপন করতে একটি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থাকে চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম 'ইউক্রেনস্কায়া প্রাভদা'-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা 'সেন্ট্রারএনারগো' (Centrenergo) রুশ হামলায় তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশের পরই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে 'তীব্র' প্রতিক্রিয়া আসে এবং সেই বিবৃতি প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়।

 

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর। মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেসময় জানায় যে, তারা ইউক্রেনের সামরিক কারখানা এবং সেগুলোকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কিয়েভ সরকার প্রাথমিকভাবে এই হামলার কথা স্বীকার করলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বা ক্ষয়ক্ষতির গুরুত্বকে জনসমক্ষে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে।

 

কিন্তু, শনিবার ইউক্রেনের দুটি প্রধান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনাকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা 'সেন্ট্রারএনারগো' একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করে। সেই বিবৃতিতে তারা খোলাখুলি স্বীকার করে যে, রুশ হামলায় তাদের মাস ধরে চালানো মেরামতের কাজ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে গেছে এবং সংস্থাটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, এই চাঞ্চল্যকর বিবৃতিটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই তা সরিয়ে ফেলা হয়। পরে সেটিকে একটি গতানুগতিক ও সাদামাটা বার্তা দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়, যেখানে বলা হয়, "পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা দ্রুতগতিতে চলছে"।

 

'ইউক্রেনস্কায়া প্রাভদা' তাদের প্রতিবেদনে এই প্রত্যাহারের পেছনের কারণ অনুসন্ধান করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কোম্পানি সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, "প্রেসিডেন্টের দপ্তর (জেলেনস্কির) থেকে ফোন করে আমাদের তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়। তারা প্রশ্ন তোলে, কেন আমরা আতঙ্ক ছড়াচ্ছি এবং (এই তথ্য প্রকাশ করে) রাশিয়ানদের হাতে প্রচারণার একটি বড় সুযোগ তুলে দিচ্ছি।" ওই সূত্রটি দপ্তরের এই প্রতিক্রিয়াকে 'আতঙ্কিত' বা 'অস্বাভাবিক রকমের তীব্র' (hysterical) বলে বর্ণনা করেছেন।

 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলেনস্কি প্রশাসন যেকোনো ধরনের নেতিবাচক সংবাদ, বিশেষ করে যা যুদ্ধক্ষেত্রে বা দেশের অভ্যন্তরে দুর্বলতা প্রকাশ করে, তা এড়াতে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালায়। এর কারণ, ইউক্রেন এখনও পশ্চিমা আর্থিক ও সামরিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এমনকি সামরিক সমালোচকরাও পূর্বে অভিযোগ করেছেন যে, সরকার প্রায়শই যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার চেয়ে ইতিবাচক রাজনৈতিক বয়ান ধরে রাখতে বেশি আগ্রহী। সামরিক আইনের অধীনে, কিয়েভ বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে দেশের গণমাধ্যমের ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণও বজায় রেখেছে।

 

উল্লেখ্য, কিয়েভও সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কামিকাজে ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে দূরপাল্লার হামলাকে তাদের সামরিক কৌশলের মূল অংশ বানিয়েছে। জেলেনস্কি একাধিকবার মস্কোসহ অন্যান্য স্থানে ব্ল্যাকআউট ঘটিয়ে "যুদ্ধকে" রাশিয়ার জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। মস্কো বরাবরই দাবি করে আসছে, ইউক্রেনের এই ধরনের হামলার জবাবেই তারা পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

 

- RT News