ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির বিষয়ে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়নি। রোববার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানি আলোচক দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, চলমান আলোচনার টেবিলে যে সমঝোতা স্মারক প্রস্তাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা ঘোষণা দেয়নি।
মূলত, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি ইরানের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থীদের তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছে। সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তি কোনোভাবেই ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে না।
বিশেষ করে, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের যে ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও একচেটিয়া প্রভাব রয়েছে, এই চুক্তির ফলে তারা সেই অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হবে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মনে করছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত অস্বাভাবিকভাবে আজই এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। কারণ, আজ ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন।
তাদের ধারণা, নিজের জন্মদিনে এমন একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়ে তিনি এটিকে কেবল রাজনৈতিক প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুকৌশলী পরিকল্পনা করেছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে রোববারই তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি যুগান্তকারী চুক্তি সই হতে পারে।
তার দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরপরই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই চুক্তির প্রেক্ষাপট নিয়ে গত শনিবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে ইরানের সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তিটি হয়েছিল, সেটি মূলত তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি সহজ ও বাধাহীন পথ তৈরি করে দিয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি, ওই চুক্তি বহাল থাকলে ইরান অনেক আগেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতো। বিপরীতে, তার বর্তমান চুক্তিটিকে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধের একটি নিশ্ছিদ্র প্রাচীর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে ইচ্ছুক নয় এবং পূর্ববর্তী যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের তুলনায় তার বর্তমান সরকারের সঙ্গেই তেহরানের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ও সুদৃঢ়।