অন্যদিকে, ইরান সরকার এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এই চুক্তির বর্তমান পরিস্থিতি ও সময়সীমা নিয়ে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। দুই পক্ষের এই ভিন্নধর্মী বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে যে, দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের আলোচনা কি সত্যিই কোনো বড় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, নাকি শেষ মুহূর্তে এসে এটি পুনরায় রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাধার মুখে পড়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ তাদের দেশের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলমান সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
এমনকি চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। দেশটির অভ্যন্তরে কট্টরপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবিত চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে।
তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের যে দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব রয়েছে, তা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।
অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, রোববারই চুক্তিটি সই হবে এবং এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, গত এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতির পর থেকে আলোচনায় বারবার বিলম্ব হলেও ট্রাম্প দ্রুত সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদী। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কাতারের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছে এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির ইঙ্গিত দিলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নাকচ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং রোববার এই ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, ইরানি আলোচক দলের জেনেভা বা অন্য কোথাও যাওয়ার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, আলোচনা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে এবং চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির রূপরেখা এখনো বেশ ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো অত্যন্ত জটিল ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো যেকোনো সময় আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার কারণ হতে পারে।
এছাড়া লেবাননের চলমান উত্তেজনাসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও চুক্তির পথে বড় বাধা। ইরানের রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা এবং সামরিক বাহিনীর মতো প্রভাবশালী পক্ষগুলো এই চুক্তির সমালোচনা করে সতর্ক করেছে যে, এটি ওয়াশিংটনের কাছে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার শামিল।
কোনো সুনির্দিষ্ট খসড়া বা স্বাক্ষরের স্থান নির্ধারিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আরও কঠিন কূটনৈতিক পথ পাড়ি দিতে হবে।