সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তি ফেরাতে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের আহ্বান ও ট্রাম্পের নতুন চুক্তিপ্রস্তাব

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

শান্তি ফেরাতে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের আহ্বান ও ট্রাম্পের নতুন চুক্তিপ্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি টেকসই ও সুন্দর শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলের প্রতি সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

রোববার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলা চালানো একেবারেই উচিত হয়নি।

 

একই সঙ্গে তিনি এই অঞ্চলে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি অত্যন্ত আসন্ন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি একই দিনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হবে কি না, সেই বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ বর্তমানে এমন একটি যুগান্তকারী চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, যা লেবাননসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

 

তাই এই মুহূর্তে সব পক্ষেরই সব ধরনের আক্রমণাত্মক সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা উচিত। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই চুক্তি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর শান্তির সূচনা হতে পারে, যা কোনোভাবেই হাতছাড়া করা সমীচীন হবে না।

 

এর আগে একই দিনে দেওয়া অন্য একটি বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তিটি রোববারই স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

 

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আশাবাদী দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান এবং ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন এক গভীর কূটনৈতিক ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে তেহরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

 

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি এবং এটি রোববার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

এই চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাতারের একটি উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছে এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি ইতিবাচক নিষ্পত্তির ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান একদিকে যেমন কূটনৈতিক আশাবাদ তৈরি করেছে, অন্যদিকে সরকারি সতর্কতা ও বাস্তবায়নের মধ্যকার ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

 

- এএফপি, রয়টার্স