সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির আগমুহূর্তে বৈরুতে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির আগমুহূর্তে বৈরুতে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

 

রোববার সংঘটিত এই আকস্মিক হামলার পর বৈরুতের আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে এবং বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক রকেট হামলার সরাসরি জবাবে বৈরুতে এই পাল্টা সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।

 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, রোববার হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বসতিগুলো, বিশেষ করে শোমেরা ও শ্লোমি এলাকার কাছাকাছি লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

 

ইসরায়েল এই ঘটনাকে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে প্রতিশোধের রাজনীতি একটি নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 

এর আগে গত সপ্তাহেও বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার জেরে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের ভূখণ্ডে সামরিক আক্রমণ চালিয়েছিল। হিজবুল্লাহর প্রধান মিত্র ও পৃষ্ঠপোষক তেহরান শুরু থেকেই অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি জানিয়ে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধের শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

 

তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তির খসড়ায় লেবাননে সামরিক আগ্রাসন বন্ধের বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্থান পেয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো ব্যাপক ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সম্ভাব্য চুক্তিটি ঠিক কবে নাগাদ স্বাক্ষরিত হবে, তা নিয়ে শনিবারে নতুন করে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

 

চুক্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ইতিবাচক বিবৃতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রোববারের মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা সম্পন্ন হতে পারে।

 

তবে বৈরুতে নতুন করে এই সামরিক হামলার পর সেই শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে।

 

এর ঠিক দুই দিন পর, ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে থাকে। পরবর্তীতে গত ৪ এপ্রিল প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

- আল জাজিরা