মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমোজ প্রণালিতে অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

হরমোজ প্রণালিতে অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
ছবি : Reuters

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও একধাপ বাড়িয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি।

 

মঙ্গলবার ভোরে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং অন্যান্য স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়েছে।

 

আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স বা মহাকাশবাহিনীর পরিচালিত একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটিকে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত ও ধ্বংস করা হয় বলে দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষক এবং সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুযুদ্ধ, আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবং প্রকাশ্য সামরিক উত্তেজনার একটি নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করছে।

 

ইরানের সামরিক বাহিনীর সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানে ঠিক কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার ব্যবস্থা বা ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা সামরিক গোপনীয়তার স্বার্থে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

 

তবে আইআরজিসি জোর দিয়ে দাবি করেছে যে, সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এবং দেশীয় প্রকৌশলীদের দ্বারা পরিচালিত এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং নির্ভুলভাবে যেকোনো উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

 

সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই দাবি যদি পুরোপুরি সত্যি হয়, তবে তা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য ও অভাবনীয় প্রযুক্তিগত উন্নতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

 

কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন কেবল বিশ্বের অন্যতম আধুনিক আকাশযানই নয়, এটি একইসঙ্গে রাডার ফাঁকি দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা এবং উচ্চ উচ্চতায় নিঃশব্দে উড্ডয়নের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

 

এই ধরনের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত ড্রোনকে চিহ্নিত করে ভূপাতিত করা আধুনিক বিশ্বের যেকোনো দেশের সামরিক বাহিনীর জন্যই একটি অত্যন্ত জটিল ও বড় মাপের চ্যালেঞ্জ।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে এবং তাদের বৈশ্বিক নজরদারি কার্যক্রমে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। এই চালকবিহীন বিমানটি মূলত দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় শত্রুপক্ষের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিবিড় নজরদারি এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লেজার-গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলা চালানোর জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।

 

প্রতিটি ড্রোনের নির্মাণ ব্যয় কোটি কোটি ডলার এবং এটি অত্যাধুনিক অপটিক্যাল সেন্সর, ইনফ্রারেড ক্যামেরা, শক্তিশালী স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় রাডার সিস্টেমে সজ্জিত থাকে। এই ধরনের একটি বহুমুখী ও মহামূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম হারানোর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেবল আর্থিকভাবেই বিশাল ক্ষতি নয়, বরং সামরিক কৌশলগত এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও একটি বড় ধরনের ধাক্কা।

 

ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই ড্রোনটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের সার্বভৌম আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছিল, যার ফলে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক বাহিনী এটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করতে বাধ্য হয়।

 

এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থাৎ হরমোজ প্রণালি, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত অঞ্চল।

 

মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো-যেমন সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ এই অত্যন্ত সরু ও সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

 

ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত, গোলাগুলি বা সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং অর্থনীতিকে সরাসরি ও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমোজ প্রণালি এবং এর আশেপাশের সামুদ্রিক এলাকায় বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজ এবং সামরিক নৌযানগুলোর স্বাভাবিক চলাচলে বারবার নানা ধরনের বিঘ্ন ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকটের এই চরম মুহূর্তে হরমোজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সামান্যতম বিঘ্নিত হলে তেলের দাম বিশ্বব্যাপী হু হু করে বেড়ে যাওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির জন্ম দিতে পারে।

 

ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর থেকে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫৪টি ড্রোন ধ্বংস বা অকার্যকর করেছে ইরান।

 

যদিও এই বিপুল সংখ্যার সত্যতা স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা সংবাদমাধ্যম দ্বারা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বহুবার ইরানের এ ধরনের দাবিকে অতিরঞ্জিত এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

তবে বারবার এই ধরনের পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাত এবং বাগ্যুদ্ধের খবর মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ক্রমেই খাদের কিনারায় এবং একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক সক্ষমতা, ধৈর্য এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা পরীক্ষা করার জন্য এই ধরনের প্রক্সি বা সীমিত পরিসরের সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।

 

এই ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ যেকোনো মুহূর্তে একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকে ভয়াবহ এবং পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার পরিণতি হবে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার এই সাম্প্রতিক এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার গভীর শিকড় মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে সংঘটিত ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে নিহিত রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সে সময় ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ ও আকস্মিক বিমান হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আস্থার জায়গাটি একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে।

 

সেই হামলার তীব্র জবাবে ইরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ চালায়। এই ধারাবাহিক এবং প্রতিশোধমূলক হামলার ফলে হরমোজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং অনেক জাহাজ কোম্পানি তাদের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘ এই সংঘাত নিরসনে বারবার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিলেও তা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আলোর মুখ দেখেনি। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক পর্যায়েও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে এবং তা সমাধানের পথ আরও দুর্গম হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমোজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও বাধামুক্তভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ইরান সম্প্রতি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

ইরানের নীতিনির্ধারকদের সুস্পষ্ট অভিযোগ হলো, ওয়াশিংটন তাদের উত্থাপিত মূল শর্তগুলো, বিশেষ করে ইরানের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর অবাধ চলাচলের অধিকারের বিষয়টি সঠিকভাবে মূল্যায়ন বা স্বীকার করেনি।

 

দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে কিছু গোপন বার্তা আদান-প্রদান হলেও, মার্কিন সামরিক নৌ-অবরোধ, ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি এবং পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো অত্যন্ত মৌলিক ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে এখনো বিস্তর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

 

ইরানের এই অত্যন্ত অনমনীয় ও আপসহীন অবস্থানের কারণে উভয় দেশের মধ্যে একটি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথ দিন দিন আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বা ওয়াশিংটনের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মঙ্গলবারের এই ড্রোন ভূপাতিত করার ইরানি দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করেননি বা কোনো বিবৃতি দেননি।

 

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন সাধারণত তাদের যেকোনো সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে অত্যাধুনিক ড্রোন বা বিমানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে তথ্য প্রকাশ করে থাকে।

 

পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, সামরিক পর্যবেক্ষক এবং বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষকরা এখন ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য গভীর উৎকণ্ঠার সাথে অপেক্ষায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ঘটনার সত্যতা প্রকাশ্যে স্বীকার করে, তবে তারা এর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, যা এই অস্থিতিশীল অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও বেশি ভয়াবহ করে তুলবে।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অতীতের মতো এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেয়, তাহলেও দুই দেশের মধ্যে চলমান এই তীব্র তথ্যযুদ্ধ, প্রোপাগান্ডা এবং মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মাত্রা বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না।

 

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পরিশেষে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, হরমোজ প্রণালির সংবেদনশীল আকাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার এই সাম্প্রতিক দাবিটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক সামরিক ঘটনা নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের এবং নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর ঐতিহাসিক লড়াইয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনাগুলো বারবার প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের মতো একটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল, সামরিকভাবে স্পর্শকাতর এবং রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা ঠিক কতটা কঠিন কাজ।

 

যেকোনো ছোটখাটো সামরিক ভুল বোঝাবুঝি, সামান্যতম উস্কানি বা ভুল হিসাব-নিকাশ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণের বাইরের এবং বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সামরিক সংকটের জন্ম দিতে পারে, এটি তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।

 

বিশ্বের বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর নেতারা, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এখন এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং অনতিবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত, কার্যকর এবং নিরপেক্ষ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

 

অন্যথায়, এই ভয়াবহ সংঘাতের উত্তাপ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের বালুকারাশিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর।

 

- আল জাজিরা