বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে এল নিনোর তাণ্ডব শুরু হওয়ার প্রায় নব্বই শতাংশ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই বিশেষ ও অস্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বর্তমান অবস্থা আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই সুপার এল নিনো বিশ্বব্যাপী প্রবল শক্তিতে আঘাত হানতে পারে এবং ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব অব্যাহত থাকবে।
এর ফলে পৃথিবীর অনেক দেশে তীব্র ও প্রাণঘাতী দাবদাহের সৃষ্টি হবে, আবার বিপরীতভাবে অনেক অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক মাত্রায় অতিবৃষ্টি বা প্রলয়ংকরী বন্যার মতো দুর্যোগ নেমে আসবে।
বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, এই সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে কৃষিব্যবস্থা ও ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার গভীর শঙ্কা রয়েছে।
এর ফলে বিশ্বের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আসন্ন এই বৈশ্বিক দুর্যোগ নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, বিজ্ঞানের প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত একেবারেই স্পষ্ট। নব্বই শতাংশ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এল নিনো আমাদের দোরগোড়ায় এসে উপস্থিত হচ্ছে।
তাই সমগ্র বিশ্বকে এখনই এটিকে একটি অতি জরুরি আবহাওয়া সতর্কতা হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, এল নিনো মূলত একটি উষ্ণ হয়ে ওঠা বিশ্বের জ্বলন্ত আগুনে নতুন করে জ্বালানি ঢালার মতো কাজ করবে।
এর প্রভাব হবে কল্পনাতীত মাত্রায় ভয়াবহ, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক গতি নিয়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সীমান্ত অতিক্রম করবে।
ভয়াবহ এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার একমাত্র কার্যকর সমাধান হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিব পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে বৈশ্বিক নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে আনা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সার্বিক সুরক্ষা প্রদান করা এবং বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এদিকে, আবহাওয়াবিদ ও গবেষকদের সর্বাধুনিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুপার এল নিনোর এই প্রবল ও বিরূপ প্রভাবে ২০২৬ সাল মানব ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড গড়তে পারে, যা সমগ্র প্রাণিজগতের জন্য এক অশুভ অশনিসংকেত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।