বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে প্রসাদের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে নারীদের ধর্ষণ, ‘আইআইটি বাবা’ গ্রেপ্তার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

ভারতে প্রসাদের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে নারীদের ধর্ষণ, ‘আইআইটি বাবা’ গ্রেপ্তার
ছবি : Collected

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরায় আধ্যাত্মিক গুরুর ছদ্মবেশ ধারণ করে নারীদের ওপর অমানবিক যৌন নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে অভিষেক মিশ্র নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

‘আইআইটি বাবা’ নামে পরিচিত এই ভণ্ড ধর্মগুরু মূলত একজন উচ্চশিক্ষিত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। গত মঙ্গলবার পুলিশের পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ধর্মাচরণের আড়ালে এমন চাঞ্চল্যকর ও ন্যক্কারজনক অপরাধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর পুরো মথুরা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, ধর্মের লেবাস ব্যবহার করে সুপরিকল্পিতভাবে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে।

 

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঊনত্রিশ বছর বয়সী অভিযুক্ত এই যুবক ভারতের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ আইআইটি রুরকি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন।

 

তবে শিক্ষাজীবন শেষে তিনি স্বাভাবিক পেশায় না গিয়ে মথুরায় চলে আসেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আদিকর্তা নারায়ণ দাস’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। জনসমক্ষে নিজেকে একজন সর্বত্যাগী আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি।

 

উচ্চশিক্ষিত হওয়ার কারণে সাধারণ অনুসারীদের কাছে তিনি খুব দ্রুত ‘আইআইটি বাবা’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। মথুরার পবিত্র রাধাকুঞ্জ এলাকায় তিনি রীতিমতো একটি বিশাল আশ্রম গড়ে তোলেন।

 

এর পাশাপাশি ‘রাধা কৃপা অমৃত’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল চালু করে সেখানে নিয়মিত আধ্যাত্মিক বয়ান ও দর্শন প্রচার করতে থাকেন। তার এই সুমিষ্ট কথার ফাঁদে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক তরুণ-তরুণীই তার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুসারী তরুণ-তরুণীদের মগজধোলাই করে নিজ নিজ পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে এবং তার আশ্রমে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে প্ররোচিত করতেন অভিষেক।

 

তার এই সুকৌশলী মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে পড়ে প্রায় চব্বিশজন তরুণ-তরুণী নিজেদের পরিবার ছেড়ে তার আশ্রমে পাকাপাকিভাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আশ্রমে বসবাসকারী তরুণীদের সঙ্গে তথাকথিত ‘গান্ধর্ব বিবাহ’-এর নামে চরম প্রতারণা করতেন এই ভণ্ড ধর্মগুরু।

 

এরপর পবিত্র প্রসাদ গ্রহণের কথা বলে দুধের সঙ্গে অতি সন্তর্পণে মারাত্মক মাদক মিশিয়ে তাদের পান করানো হতো। ভুক্তভোগী নারীরা অচেতন বা অর্ধচেতন হয়ে পড়লে তাদের ওপর নির্মম যৌন নির্যাতন চালাতেন তিনি।

 

শুধু তাই নয়, এই পাশবিক নির্যাতনের দৃশ্য তিনি অত্যন্ত সঙ্গোপনে ভিডিও করে রাখতেন। পরবর্তীতে ওই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে দিনের পর দিন নিজের লালসা চরিতার্থ করতেন তিনি।

 

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জঘন্য অপরাধের চক্রটি প্রথম জনসমক্ষে আসে যখন ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্য থেকে আসা এক ভুক্তভোগী তরুণী সাহসের সঙ্গে অভিষেকের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। ওই তরুণী সরাসরি পুলিশের কাছে গিয়ে একটি বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

ওই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশের নিবিড় তদন্তে আরও জানা গেছে, শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইল করে আশ্রমের নিরীহ আবাসিকদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থও হাতিয়ে নিতেন তিনি।

 

বর্তমানে এ ঘটনায় অভিষেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঠিক কতজন নারী তার এই বিকৃত মানসিকতা ও ভয়ংকর প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ব্যাপক অনুসন্ধান ও আইনি তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

 

এনডিটিভি