কোনো ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম বা দড়ির সহায়তা ছাড়াই পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে ওঠার জন্য তার দেশজুড়ে খ্যাতি ছিল। রোববার (১৪ জুন) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি গত শুক্রবার ইয়েমেনের ধালে প্রদেশের হরাদত দামত নামক একটি মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সী কাকা গত শুক্রবার আগ্নেয়গিরির অত্যন্ত খাড়া ঢাল বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন।
আরোহণের এক পর্যায়ে হঠাৎ হাত ফসকে তিনি প্রায় ১২০ মিটার গভীর সেই জ্বালামুখের নিচে পড়ে যান। ইয়েমেনের রুক্ষ পাহাড় ও দুর্গম আগ্নেয়গিরিতে তার দুঃসাহসিক আরোহণের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
তিনি প্রায়শই কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক সরঞ্জাম ছাড়াই বিপজ্জনক সব উচ্চতায় আরোহণ করতেন, যা দর্শকদের যেমন মুগ্ধ করত, তেমনি তৈরি করত গভীর উৎকণ্ঠা। তার এই অদম্য সাহসের কারণেই সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবেসে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকাজটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং, কারণ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ভেতরের পরিবেশ ছিল অন্ধকার ও প্রতিকূল।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিরলস চেষ্টার পর শনিবার উদ্ধারকারীরা তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। অভিযানে দুর্গম স্থানে পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকারীদের কৃত্রিম আলোর পাশাপাশি বিশেষ কারিগরি সরঞ্জামের সাহায্য নিতে হয়েছিল।
কাকা আনতার আল আবসি নামেও পরিচিত এই আরোহীর মৃত্যুতে ইয়েমেনের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ও তার অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ এই ভিডিওটির সত্যতা সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
কাকা আনতারের এই অকাল প্রস্থান ইয়েমেনের দুঃসাহসিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করল। তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ইয়েমেনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বের সামনে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছিলেন।
বিপজ্জনক শখের নেশায় প্রাণ হারানো এই তরুণ আরোহীর মৃত্যুতে তার পরিবার ও অগণিত ভক্তদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। এই দুর্ঘটনাটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ক্রীড়া এবং পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।