আজানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ, যেখানে মহান আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য বা শাহাদাত বাণী উচ্চারণ করা হয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি আকস্মিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং স্থানীয় সূত্রগুলোর খবর অনুযায়ী, এই অভাবনীয় ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় জনপদ থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক ও অনুরাগের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম, প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লি এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, মৃত্যুবরণ করা ওই সম্মানিত মুয়াজ্জিনের নাম আব্দুল লতিফ। গত মঙ্গলবার কেরালার স্থানীয় একটি মসজিদে তিনি যখন নামাজের জন্য মুসল্লিদের আহ্বান জানাতে আজান দিচ্ছিলেন, তখনই এই বিষাদময় ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আব্দুল লতিফ বরাবরের মতোই অত্যন্ত সুমধুর কণ্ঠে আজান শুরু করেছিলেন। কিন্তু আজানের ঠিক মাঝপথে, যখন তিনি স্রষ্টার একত্ববাদের ঘোষণার অংশে পৌঁছান, তখন হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে মসজিদের অভ্যন্তরে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সাময়িকভাবে হতচকিত হয়ে গেলেও দ্রুত তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
ইন্টারনেটের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার একটি ভিডিওতে দৃশ্যমান হয় যে, মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফ অত্যন্ত ভক্তিভরে আজানের প্রথম অংশগুলো সম্পন্ন করার পরপরই আকস্মিকভাবে নিজের শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
ঘটনার পরপরই উপস্থিত লোকজন কালক্ষেপণ না করে তাকে উদ্ধার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, আকস্মিক শারীরিক জটিলতার কারণেই তার এই অকাল মৃত্যু ঘটেছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাইরেও এই মৃত্যুর আধ্যাত্মিক ধরন উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
পবিত্র আজান দেওয়া অবস্থায় একজন মুয়াজ্জিনের এহেন বিদায়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক আবেগ ও সহানুভূতি সৃষ্টি হয়।
ধর্মপ্রাণ মানুষেরা এই মৃত্যুকে অত্যন্ত সম্মানজনক এবং পরম সৌভাগ্যের একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় চিন্তাবিদ মন্তব্য করেছেন যে, স্রষ্টার ইবাদতের জন্য মানুষকে ডাকার মতো একটি পবিত্র দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া যেকোনো ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্যই এক পরম আকাঙ্ক্ষিত ও স্মরণীয় সমাপ্তি।
মরহুম আব্দুল লতিফের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অগণিত মানুষ ক্রমাগত তাদের শোকবার্তা প্রকাশ করে চলেছেন।