রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের সামনে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা বাবা-মায়ের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

পুলিশের সামনে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা বাবা-মায়ের
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। নিজের পছন্দের মানুষকে ভালোবেসে বিয়ে করার অপরাধে থানা চত্বরের ভেতরেই পুলিশের উপস্থিতিতে জন্মদাতা বাবা-মায়ের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন এক তরুণী।

 

স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় ক্ষিপ্ত বাবা-মা এই প্রাণঘাতী হামলা চালান। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা যায়, নিহত ওই ১৯ বছর বয়সী তরুণীর নাম শিবানী। গত ১৮ মে তিনি প্রতিবেশী ললিত বর্মার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তারা একটি মন্দিরে গিয়ে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং আইনগতভাবে নিজেদের বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।

 

অন্যদিকে, শিবানীর নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে ললিতের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং গত শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাজ্য মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলা থেকে নবদম্পতিকে উদ্ধার করে।

 

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বান্দা থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শিবানী ও ললিত উভয়েই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

 

নিজেদের দাবির সপক্ষে তারা বিয়ের যাবতীয় বৈধ আইনি নথিপত্রও পুলিশকে প্রদর্শন করেন। এরপর শিবানীর আইনি জবানবন্দি রেকর্ড ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় উভয় পরিবারের সদস্যদের থানায় ডাকা হয়।

 

সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে শিবানীর বাবা-মা তাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত মানসিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। কিন্তু শিবানী তার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন এবং স্বামী ললিতের সঙ্গেই সংসার করার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

 

শিবানীর এমন সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আকস্মিকভাবে শিবানীর মা রান্নো পেছন থেকে নিজের মেয়েকে শক্ত করে চেপে ধরেন।

 

ঠিক সেই মুহূর্তে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের হতবাক করে দিয়ে শিবানীর বাবা একটি ধারালো ছুরি বের করে নিজের মেয়ের ওপর উপর্যুপরি হামলা চালান। বাবার এই নির্মম ছুরিকাঘাতে শিবানীর পেট ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

 

রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশ তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ওই তরুণী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

 

বান্দা জেলার পুলিশ সুপার পলাশ বানসাল এই জঘন্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত বাবাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।