অন্যদিকে, ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এই দুই শীর্ষ কূটনীতিকের মধ্যে হরমুজ প্রণালির চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে মার্কিন বাহিনী যেসব দিকনির্দেশনা দিচ্ছে, সমস্ত বাণিজ্যিক নৌযানকে তা অবিলম্বে ও বিনাশর্তে মেনে চলতে হবে।
তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনি অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের বন্দরগুলো ব্যবহার করা এবং বেআইনি প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তেল পরিবহন করার যেকোনো পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তবে এই হুঁশিয়ারির বিপরীতে ভারতও নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর জানিয়েছেন যে, মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনায় তিনি ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর মার্কিন প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন নিরীহ ভারতীয় নাবিকের নিহত হওয়ার ঘটনা ভারত তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী সামরিক পদক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এই ঘটনার জেরে ভারত সরকার মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে নিজেদের অসন্তোষের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমা অবরোধ অমান্য করে ইরানি তেল পরিবহনের চেষ্টা করায় তারা সম্প্রতি গিনি-বিসাউ এবং পালাউয়ের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকার যথাক্রমে এমটি জালভির, এমটি মেরিভেক্স এবং এমটি সেট্টেবেলোকে সামরিকভাবে অকার্যকর করে দিয়েছে।
এর মধ্যে গত বুধবার ওমান উপকূলে এমটি সেট্টেবেলো নামের জাহাজটিতে মার্কিন হামলায় ওই তিন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান। ঘটনার পর ওমান কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি থেকে চব্বিশ জন ভারতীয় নাবিককে আকাশপথে নিরাপদে উদ্ধার করে।
এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকারে হামলার পর সেখান থেকেও বিশ জন ভারতীয়সহ অন্যান্য ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে নয়াদিল্লি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র দুটির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে এক নতুন ভূরাজনৈতিক সংকটের সুস্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।