বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থী রাজাপাকসে গ্রেপ্তার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থী রাজাপাকসে গ্রেপ্তার
ছবি : Collected

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও এক বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী রাজাপাকসে পরিবারের অন্যতম সদস্য এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের স্ত্রী, সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থী রাজাপাকসেকে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন।

 

বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি শিশু হাসপাতালের জন্য দেশি-বিদেশি অনুদান হিসেবে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের মতো স্পর্শকাতর ও নৈতিকভাবে স্খলনের বিষয়।

 

এই ঘটনাটি শ্রীলঙ্কার চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রার জন্ম দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করে আসছিল রাজাপাকসে পরিবার।

 

কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

 

এর ধারাবাহিকতায় রাজাপাকসে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অতীতে উত্থাপিত এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা দুর্নীতির বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তদন্ত পুনরায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে শুরু করা হয়েছে।

 

নতুন সরকারের এই আপসহীন উদ্যোগকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শ্রীলঙ্কার প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ৭৩ বছর বয়সী সাবেক ফার্স্ট লেডি শিরান্থী রাজাপাকসেকে বুধবার রাজধানী কলম্বো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে আইনি প্রক্রিয়া ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ‘কমিশন টু ইনভেস্টিগেট অ্যালিগেশনস অব ব্রাইবারি অর করাপশন’ বা সিআইএবিওসির প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

রাজধানীতে অবস্থিত রাজাপাকসের অত্যন্ত সুরক্ষিত বাসভবনের সামনে সিআইএবিওসির এক পদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান যে, শিরান্থী রাজাপাকসের দ্বারা পরিচালিত দাতব্য সংস্থা ‘সিজিলিয়া স্যাভিয়া ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে সংঘটিত দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার জামিন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করার বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এই দুর্নীতির অভিযোগটির ধরন অত্যন্ত স্পর্শকাতর, কারণ এটি সরাসরি গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার সাথে জড়িত।

 

দেশটির পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিশেষ করে একটি পিইটি স্ক্যানার কেনার উদ্দেশ্যে সিজিলিয়া স্যাভিয়া দাতব্য সংস্থার নামে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ত্রিশ হাজার তিনশ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছিল।

 

তবে সিআইএবিওসির তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, চীন সরকার ইতোমধ্যেই সেই কাঙ্ক্ষিত স্ক্যানারটি শ্রীলঙ্কাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে প্রদান করেছিল।

 

এই বিষয়টি সম্পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও রাজাপাকসের দাতব্য সংস্থাটি অত্যন্ত সুকৌশলে জনগণের কাছ থেকে অনুদান তোলা অব্যাহত রাখে এবং পরবর্তীতে সেই সংগৃহীত অর্থ জনকল্যাণে বা হাসপাতালের উন্নয়নে ব্যয় না করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করে।

 

এই আর্থিক কেলেঙ্কারির জাল কেবল সাবেক ফার্স্ট লেডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন তৎকালীন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের আমলারাও। সিআইএবিওসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিরান্থী রাজাপাকসের ওই দাতব্য সংস্থায় প্রায় এক কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি, যা প্রায় ত্রিশ হাজার মার্কিন ডলারের সমতুল্য, অনুদান হিসেবে প্রদান করার নেপথ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করা হয়েছে।

 

এই বেআইনি লেনদেনের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেভিংস ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রদীপ কারিয়াবাসামকেও তদন্তের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রদীপ কারিয়াবাসাম ব্যাংকের যথাযথ আর্থিক নিয়মকানুন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকারি তহবিল থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজাপাকসের ব্যক্তিগত দাতব্য সংস্থায় অনুদান হিসেবে হস্তান্তর করেছিলেন।

 

শিরান্থী রাজাপাকসের গ্রেপ্তারের এই ঘটনাপ্রবাহ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এক নাটকীয় রূপ ধারণ করেছিল। উন্নত চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি তড়িঘড়ি করে সিঙ্গাপুরে গমন করেন। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের জাল আরও সংকুচিত হতে থাকে।

 

নিজের দাতব্য সংস্থার বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদানের জন্য তাকে কলম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তলব করে একটি আইনি নোটিশ জারি করা হয়। সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের মাধ্যমে তিনি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন এবং গত সোমবার তিনি সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন।

 

তার সেই আগাম জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আদালত আগামী ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করেছিল। কিন্তু তার আগেই তদন্তকারী সংস্থা পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

 

তবে রাজাপাকসে পরিবারের পক্ষ থেকে বরাবরই এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শিরান্থী রাজাপাকসের নিযুক্ত প্রধান আইনজীবী মনোজ গামাগে দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে, তার মক্কেল এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে সংগৃহীত অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগের বিরুদ্ধে শিরান্থী রাজাপাকসে দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে তার আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।

 

শিরান্থী নিজে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় সব ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, ফাউন্ডেশনের কোনো অর্থ কখনোই ব্যক্তিগত স্বার্থে আত্মসাৎ করা হয়নি। শিরান্থী রাজাপাকসের এই গ্রেপ্তার এমন এক সময়ে ঘটল যখন এই প্রভাবশালী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বহুমুখী আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার চরম শিখরে অবস্থান করছেন।

 

সাবেক ফার্স্ট লেডির বড় ছেলে এবং দেশের বিরোধীদলীয় প্রভাবশালী আইন প্রণেতা নামাল রাজাপাকসেও বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাবার শাসনামলে ২০১৩ সালে বহুজাতিক বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা এয়ারবাসের সাথে সই হওয়া একটি অত্যন্ত লাভজনক কিন্তু বিতর্কিত চুক্তির সাথে তিনি বেআইনিভাবে জড়িত ছিলেন এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন।

 

রাজাপাকসে পরিবার অবশ্য ধারাবাহিকভাবে এসব দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট মামলা দায়ের করছে।

 

শ্রীলঙ্কার আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজাপাকসে পরিবারের উত্থান ও পতনের কাহিনী অত্যন্ত নাটকীয়। মাহিন্দা রাজাপাকসে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক ব্যবস্থায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে ২০২২ সালে দেশটিতে স্মরণকালের ভয়াবহতম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও অর্থনৈতিক ধস দেখা দিলে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

 

তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তার ভাই, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন এবং চূড়ান্তভাবে ক্ষমতাচ্যুত হন। সেই ঐতিহাসিক গণজাগরণের পর থেকেই রাজাপাকসে পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব ও জনসমর্থন একেবারে তলানিতে এসে ঠেকে।

 

এত কিছুর পরও মাহিন্দা রাজাপাকসে এখনও শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

তবে রাজাপাকসে পরিবারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগের তালিকা কেবল দুর্নীতি, অর্থপাচার বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং শ্রীলঙ্কায় পরিকল্পিতভাবে মুসলিমবিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক মনোভাব উসকে দেওয়ার মতো অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে রয়েছে।

 

২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে ইস্টার সানডের প্রার্থনারত অবস্থায় গির্জা ও অভিজাত হোটেলে এক ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে প্রায় ২৭০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন এবং শত শত মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

 

সেই জাতীয় শোক ও ট্র্যাজেডির পর রাজাপাকসে পরিবার ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা তড়িঘড়ি করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলার দায় চাপাতে শুরু করে।

 

জাতীয় নিরাপত্তার এই চরম সংকটের সুযোগ নিয়ে গোতাবায়া রাজাপাকসে নিজেকে দেশের একমাত্র ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা সম্পূর্ণ নির্মূল করার এক লোকরঞ্জক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ওই বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেন।

 

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই ভয়াবহ হামলার নেপথ্যের প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হতে শুরু করে। শ্রীলঙ্কার অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি দীর্ঘ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পর সেই বোমা হামলার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা, গভীর ষড়যন্ত্র এবং চরমপন্থীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা করার গুরুতর অভিযোগে দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে গ্রেপ্তার করে, যিনি রাজাপাকসে প্রশাসনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য কীভাবে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকে জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছিল। বর্তমানে শিরান্থী রাজাপাকসে থেকে শুরু করে নামাল রাজাপাকসে পর্যন্ত এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়াগুলো শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

 

নতুন সরকারের এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান যদি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা দ্বীপরাষ্ট্রটির ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক বিশাল ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

- এএফপি