গত মে মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অর্জিত সাফল্য এবং সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহায় জননিরাপত্তা ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের যানবাহন এবং পুলিশের নিজস্ব গাড়িতে নিবন্ধনহীনতার পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে সতর্কতামূলক সাইরেন বা উচ্চশব্দের বাঁশি ব্যবহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার তার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে সড়কে যাতায়াত করেন। সেখানে সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো ব্যক্তি আইন ভাঙলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
জরুরি সেবার আওতাভুক্ত যানবাহন ছাড়া সাধারণ কোনো গাড়িতে এ ধরনের সাইরেন বাজানো সম্পূর্ণ বেআইনি। যারা এই আইন মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিবন্ধনবিহীন বা কেবল ইঞ্জিন নম্বর ব্যবহার করে চলাচলকারী যানবাহনের ক্ষেত্রেও সমমানদণ্ডে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের চিত্র তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার জানান, সড়কে সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।
কোনো যানবাহন নির্ধারিত পথ অমান্য করলে কিংবা অন্য কোনো যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা যন্ত্রের মাধ্যমে ধরা পড়ছে। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসেই সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট আটত্রিশ হাজার ২৮৪টি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে ৬৭২টি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এসব ঘটনার বিপরীতে মোট আট কোটি একাত্তর লাখ ছাপান্ন হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই মাসে বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ট্রাফিক ও ফৌজদারি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে প্রয়োজনীয় জরিমানা আদায় ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও সুস্পষ্ট বার্তা দেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কগুলোতে এ ধরনের রিকশার প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যেহেতু এই যানগুলো প্রচলিত মোটরযান আইনের আওতায় পড়ে না, তাই এদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে নিয়ম অমান্য করে মূল সড়কে প্রবেশ করলে এসব রিকশা সরাসরি জব্দ করে পুলিশের নির্ধারিত স্থানে আটকে রাখা হচ্ছে।
যানজট নিরসন ও রাজধানীর সড়কে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন কঠোর অভিযান প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।