বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

একসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব একসঙ্গে পালনে কোনো ধরনের কাঠামোগত বা আইনি বাধা নেই।

 

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা জানান। একই সঙ্গে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে আসীন থাকার বিষয়ে জনমনে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের নজির তুলে ধরেন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতি বা ছুটি নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর আছে কি না-সাংবাদিকদের এমন কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান অত্যন্ত সাবলীলভাবে বলেন, এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

 

প্রায় চল্লিশ বছর আগে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রখ্যাত কূটনীতিক হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তিনি নিজে তখন হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর একান্ত সচিব হিসেবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

 

সেই সময়ে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন কীভাবে একজন ব্যক্তি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দুটি পদেই পূর্ণকালীন সময় ও শ্রম দিয়েছেন। তিনি আরও যুক্ত করেন যে, সেটি ছিল ইন্টারনেট ও আধুনিক প্রযুক্তি-পূর্ব যুগ।

 

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কল্যাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চের দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা এখন অনেক বেশি স্বাভাবিক এবং সহজ।

 

সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদাহরণ টেনে অনেকেই যে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তারও একটি সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেন খলিলুর রহমান। তিনি জানান, জার্মানির ওই প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন মূলত তাঁর রাজনৈতিক দল ‘গ্রিন পার্টি’ জাতীয় নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কারণে।

 

দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় তিনি আর মন্ত্রী পদে বহাল থাকতে পারেননি; এর সঙ্গে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়ার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত বা বাধ্যবাধকতার সম্পর্ক ছিল না।

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অর্জিত এই ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ বিজয়কে তিনি বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি উৎসর্গ করেন।

 

এই অসামান্য অর্জনকে সমগ্র দেশ ও প্রধানমন্ত্রীর বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অবিচল, দৃঢ় ও শর্তহীন সমর্থন ছাড়া মাত্র দশ সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত সময়ে এই বিশাল লক্ষ্য অর্জন করা কখনোই সম্ভব হতো না।

 

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ওই নির্বাচনে সাইপ্রাসের বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে আট ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এই সম্মানজনক পদটি অর্জন করেন তিনি।

 

নির্বাচনে মোট ১৯০টি ভোট পড়ে, যার মধ্যে বাংলাদেশ ৯৯টি এবং সাইপ্রাস ৯১টি ভোট পায়। এই অবিস্মরণীয় বিজয়ের মাধ্যমে প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে আগামী এক বছরের জন্য বিশ্বনেতৃবৃন্দের এই বিশাল মঞ্চের নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরব অর্জন করলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।