বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক প্রাণহানি

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক প্রাণহানি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ অন্তত পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার শিবগঞ্জ, সদর এবং নাচোল-এই তিনটি উপজেলায় প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে।

 

নিহতদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় তিনজন, সদর উপজেলায় একজন এবং নাচোল উপজেলায় একজনের প্রাণহানি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বজ্রপাতের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারসহ পুরো জেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির সময় জেলার বিখ্যাত আম বাগানগুলোতে ঝরে পড়া আম কুড়াতে গিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শিবগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতের শিকার হয়ে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন তিন বাসিন্দা।

 

নিহতরা হলেন-চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন এবং মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল।

 

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, নিহত এই তিনজনই বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টির সময় নিজেদের বাড়ির পাশের আম বাগানে আম কুড়াতে গিয়েছিলেন। সে সময়ই আকস্মিক বজ্রপাতে তারা মর্মান্তিক এই মৃত্যুর শিকার হন।

 

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও নাচোল উপজেলায় প্রাত্যহিক কৃষিকাজ ও গবাদিপশু আনতে গিয়ে আরও দুজনের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকায় বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ থেকে নিজের গরু আনতে গিয়েছিলেন মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ।

 

মাঠে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন।

 

এছাড়া জেলার নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের নারী সুমিয়ারা বেগম মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। বৃষ্টির মধ্যে কাজ শেষে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বজ্রপাতের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেশ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়-বৃষ্টির সময় উন্মুক্ত স্থান, ফসলের মাঠ কিংবা বড় গাছের নিচে অবস্থান করার কারণেই মূলত গ্রামাঞ্চলে এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে থাকে।

 

আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন থাকার সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ ও আচ্ছাদিত স্থানে অবস্থান করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত সতর্ক করা হচ্ছে।