রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুর পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত পৌনে নয়টায় তাঁকে বহনকারী বিমানটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

 

বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

 

এ সময় একটি সুসজ্জিত রক্ষীবাহিনী তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। আনুষ্ঠানিকতার এক পর্যায়ে মাইসা নুর আইশা নামের এক মালয়েশীয় শিশু জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।

 

অভ্যর্থনা পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা।

 

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের একটি বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে কুয়ালালামপুরের সুপরিচিত ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

সফরকালে তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় বর্ণিলভাবে সজ্জিত করা হয়।

 

এর আগে, রোববার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা এবং কুয়ালালামপুরের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এই সফর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৩ জুন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বেইজিং সফরে বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে প্রায় পনেরো থেকে সতেরোটি দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তেরোটি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। চীন ও মালয়েশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আগামী ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।