শুক্রবার একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো ধরনের অন্যায় আচরণ বা বাড়াবাড়ি অব্যাহত থাকে, তবে বাধ্য হয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাইবেন।
এমনকি পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রদেশ গঠনের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন ও আবহমান কালের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই দেশ প্রতিটি নাগরিকের, এবং আদি বাংলাদেশের ওপর তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে।
তার মতে, হিন্দু সম্প্রদায় কখনোই বিভাজন বা আলাদা কোনো ভূখণ্ড চায় না। কিন্তু বর্তমানে যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, তা যদি অব্যাহত থাকে এবং সংখ্যালঘুদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তবে অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে তারা আন্তর্জাতিক মহলের দ্বারস্থ হবেন।
এর ফলে ভবিষ্যতে একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের দাবি বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকারে এই বিশিষ্ট আইনজীবী অতীতের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই ভূখণ্ডে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের সাথে বসবাস করে আসছে।
তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যতেও এই একই সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার বা উৎসবে যোগ দেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
কারো মন্দির বা উপাসনালয়ে আমন্ত্রিত হলে সেখানে যাওয়া বা না যাওয়া প্রতিটি মানুষের নিজস্ব অধিকার। কিন্তু এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই এমন কোনো উসকানিমূলক কাজ করা উচিত নয়, যা হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো ধরনের দাঙ্গা বা সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী অত্যন্ত সংবেদনশীল অথচ পেশাদার ভঙ্গিতে বলেন, কোনো দাঙ্গা বা সহিংসতা শুরু হলে তা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না এবং কেউই এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না।
আত্মরক্ষার অধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, যদি তাদের ওপর কোনো আক্রমণ হয়, তবে তারা নীরবে তা মেনে নেবেন না। আক্রান্ত হলে নিজেদের রক্ষায় তারাও সমোচিত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
তার এই বক্তব্য দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও নিরাপত্তার চরম উদ্বেগেরই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।