সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে তাঁর প্রথম চীন সফর। এই অতি প্রতীক্ষিত সফরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে প্রায় ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ সার্বিক সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে উভয় দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর আলোচনা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা সফরের বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আসন্ন দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি, একটি নির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সংক্রান্ত নোট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুদূরপ্রসারী আলোচনার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে।
তবে, এই সফরে কেবল আলোচনা হলেও তিস্তা সংক্রান্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি এখনই স্বাক্ষরিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে পররাষ্ট্রসচিব স্পষ্ট করেছেন।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক পরিসরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ বা জিডিআইসহ মোট চারটি উদীয়মান বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছে ঢাকা।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে ঢাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হবে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের এই নতুন মাত্রার চিন্তাভাবনাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়।
সামরিক পর্যায়ে ক্রয়-বিক্রয় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই চমৎকার সামরিক সহযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে এবং শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে তা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হতে পারে।
এছাড়া, দেশে আরও বেশি মাত্রায় চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে একটি বিশেষ বিনিয়োগ ফোরামেরও আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে চীনের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মতবিনিময় করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, ২৩ ও ২৪ জুন তিনি চীনের দালিয়ান শহরে ‘সামার ডাভোস’ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
সেখানে ফোরামের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সংকট বিষয়ক আলোচনায় তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২৫ জুন সকালে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর মূল কূটনৈতিক কর্মসূচি শুরু হবে।
একই দিনে চেরি গ্রুপ, হানদা গ্রুপ এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের মতো স্বনামধন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করবেন। ওই দিন বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হবে।
সফরের একেবারে শেষ দিন অর্থাৎ ২৬ জুন মনুমেন্ট অব দ্য পিপলস হিরোজে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ চূড়ান্ত শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন বিকেলে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বেইজিং ত্যাগ করবেন তিনি।