শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত নতুন অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের প্রস্তাব

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত নতুন অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে এক সম্পূর্ণ নতুন ও উন্নত মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে শুরু করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক সংযোগপথ বা বাণিজ্যিক পথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং।

 

শুক্রবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের মধ্যকার এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকে এই দূরদর্শী প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।

 

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগটি বাস্তবে রূপ লাভ করলে দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যের এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চীনের এই প্রস্তাবটি ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক-উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে বিবেচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে।

 

শুক্রবার, ২৬ জুন, ঐতিহাসিক এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সমাপ্তির পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র মাহাদী আমিন সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

 

এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই শীর্ষ পর্যায়ের গঠনমূলক আলোচনার বিভিন্ন ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক দিক নিয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে ব্যাপকভাবে মতবিনিময় করেন। মুখপাত্র মাহাদী আমিন অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে জানান যে, মূল বৈঠকে বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে শুরু করে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে সরাসরি চীন পর্যন্ত একটি নিবিড়, টেকসই এবং নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক সংযোগপথ স্থাপনের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ ও গুরুত্বের সঙ্গে উভয় পক্ষের দ্বারা বিবেচনা করা হয়েছে।

 

প্রস্তাবিত এই অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং অপার সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সংযোগপথের প্রধান ও অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির বর্তমান ব্যাপ্তিকে আরও বহুগুণে সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় করা, আন্তঃদেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্যিক লেনদেনের সামগ্রিক পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো এবং বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ও যুগোপযোগী করে সামনের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

 

এই যুগান্তকারী যোগাযোগ ব্যবস্থা সফলভাবে স্থাপিত হলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের আন্তঃসীমান্ত যাতায়াতে সময় এবং অর্থ-উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক ও লক্ষণীয় মাত্রায় সাশ্রয় নিশ্চিত হবে।

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকা গ্রেট হল অব পিপল-এর ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে স্থানীয় সময় ঠিক সকাল দশটায় অত্যন্ত উষ্ণ, আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে এই বহু প্রতীক্ষিত শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

দুই দেশের শীর্ষ ও রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের নেতার মধ্যে আন্তরিকতাপূর্ণ কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের অত্যন্ত চমৎকার আবহের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই আলোচনার সূচনা হয়। দীর্ঘ এই বৈঠকে শুধুমাত্র প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংযোগপথই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বিষয় নিয়েও অত্যন্ত গভীর, বিশদ ও গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনার এক পর্যায়ে গণমাধ্যম এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক গভীর সহযোগিতা আরও দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই যুগান্তকারী চুক্তিগুলো ভবিষ্যতে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে তথ্য, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতি বিনিময়ের পথকে আরও অনেক বেশি মসৃণ ও সুগম করতে অত্যন্ত কার্যকর ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।

 

এর আগে, শুক্রবার দিনের আনুষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শুরু হয় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঐতিহাসিক স্মরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। এদিন স্থানীয় সময় সকাল ঠিক সোয়া নয়টায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ও বিশ্ববিখ্যাত তিয়েনআনমেন চত্বরে সশরীরে উপস্থিত হন।

 

সেখানে তিনি অত্যন্ত বিনম্র চিত্তে চীনের বীর শহীদদের অমর ও অবিস্মরণীয় স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতাটি দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্মানবোধ, সংহতি এবং অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক অনন্য ও উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচারিত ও প্রচারিত হয়েছে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অত্যন্ত ব্যস্ত, গতিশীল এবং সার্বিক বিবেচনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরের অন্যান্য নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে চীনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা ঝাও লেজির সঙ্গে একটি বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রত্যক্ষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

এছাড়াও, চীনের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও প্রাচীন ইতিহাস, গৌরবময় ঐতিহ্য, আবহমান সংস্কৃতি এবং শিল্পকলা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে ও নিবিড়ভাবে জানার একান্ত উদ্দেশ্যে দেশটির একটি সুবিশাল ও সুপরিচিত জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনের আনন্দদায়ক কর্মসূচিও তার পূর্বনির্ধারিত সফরসূচিতে অত্যন্ত সুচারুভাবে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

 

দিনব্যাপী এই অত্যন্ত নিবিড়, প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ কূটনৈতিক ও দাপ্তরিক কর্মসূচিগুলো অত্যন্ত সফলভাবে ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার পর, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী স্থানীয় সময় ঠিক বিকেল পাঁচটায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ রাষ্ট্রীয় বিমানটি বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করার কথা রয়েছে।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশ সময় ঠিক সন্ধ্যা সাতটায় এই উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদলটি তাদের অত্যন্ত সফল ও ঐতিহাসিক সফর শেষে নিরাপদে ঢাকায় অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এই অত্যন্ত সফল সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন, গতিশীল এবং অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের এক অভাবনীয় যুগে প্রবেশ করল বলে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করেন।