শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাৎপর্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

তাৎপর্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক বিদেশ সফর শেষে অবশেষে স্বদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া ও চীনে অনুষ্ঠিত এই অত্যন্ত সফল ও গঠনমূলক রাষ্ট্রীয় সফর শেষে তিনি শুক্রবার চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে ঢাকার পথে তাঁর ফিরতি যাত্রা শুরু করেন।

 

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে এই সফরটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক, শক্তিশালী ও সুদূরপ্রসারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এশিয়ার দুটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সফর এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার, ২৬ জুন চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

 

বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের অন্যতম প্রধান বিমান পরিবহন সংস্থা চায়না সাউথার্ন এয়ারলাইনসের এই বিশেষ ফ্লাইটে দেশের পথে রওনা হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও দেশীয় সংবাদকর্মীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

এই ঐতিহাসিক সফরের সফল সমাপ্তি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত কূটনৈতিক অংশীদারিত্বকে আগামী দিনে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন।

 

বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর জন্য আয়োজন করা হয়েছিল এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের। চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং বিমানবন্দরে সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে অত্যন্ত উষ্ণ ও সম্মানজনক বিদায় সংবর্ধনা জানান।

 

এ সময় সম্পূর্ণ বিমানবন্দর এলাকায় বিশেষ আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণীকে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। তাঁরা নির্ধারিত প্রোটোকল গাড়ি থেকে নেমে সুসজ্জিত ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক লালগালিচায় হেঁটে তাঁদের জন্য নির্ধারিত বিমানে আরোহণ করেন।

 

এই বিদায়বেলায় দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার গভীর সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অনবদ্য দৃশ্য প্রতিফলিত হয়, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।

 

তাঁর এই অত্যন্ত ব্যস্ত ও গতিশীল সফরের সূচনা হয়েছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়া ভ্রমণের মধ্য দিয়ে। গত ২১ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দুই দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি।

 

সেখানে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিবিড় ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ায় অত্যন্ত গঠনমূলক একটি সফর শেষ করার পর গত সোমবার, ২২ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে চীনের অন্যতম বাণিজ্যিক ও শিল্প নগরী দালিয়ানে পৌঁছান।

 

সেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক সম্মানজনক বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম’ (ডব্লিউইএফ)-এর একটি শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতির টেকসই রূপরেখা নিয়ে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন।

 

দালিয়ানে নির্ধারিত সকল আন্তর্জাতিক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর গত বুধবার, ২৪ জুন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আধুনিক হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনে ভ্রমণ করে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এসে পৌঁছান। বেইজিং সফরকালে তাঁর কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

 

সেখানে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা হয়।

 

এর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রীয় আইনসভার সর্বোচ্চ ফোরাম ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বেইজিংয়ে আয়োজিত একটি বৃহৎ পরিসরের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনেও তিনি সশরীরে অংশগ্রহণ করেন।

 

সেখানে তিনি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ ও অপার বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেন। চারদিনের এই অত্যন্ত সফল এবং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাতে স্বদেশের মাটিতে পা রাখবেন।

 

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে, বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এই সফরের মধ্য দিয়ে অর্জিত কূটনৈতিক সাফল্য ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতাগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে।