মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউকে আঘাত করতে চাননি শিক্ষামন্ত্রী​​​​​​​, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

কাউকে আঘাত করতে চাননি শিক্ষামন্ত্রী​​​​​​​, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে দেশের চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনস্থ যে সকল পরীক্ষা বাধ্য হয়ে স্থগিত করা হয়েছিল, সেগুলো সম্পূর্ণ নতুন প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মাধ্যমে পুনরায় গ্রহণ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

 

একই সঙ্গে, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ চলাকালে নিজ অবস্থান থেকে করা একটি ব্যক্তিগত ও বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ও অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

 

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি তার এই সংবেদনশীল মনোভাব ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেন। মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে তিনি এই যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন, যা দেশের আপামর ছাত্রসমাজ, শিক্ষক এবং উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের মাঝে এক ধরনের গভীর স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ ও জাতীয় গণমাধ্যমের পেশাদার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন জাতীয় সংসদে 'বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল'-এর ওপর আনীত একটি সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা চলছিল।

 

সেই আলোচনার একপর্যায়ে স্পিকারের কাছ থেকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত স্থবিরতা এবং শিক্ষার্থীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।

 

তিনি সংসদকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন যে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকাগুলোতে আকস্মিক ও প্রলয়ংকরী বন্যার কারণে পরীক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছিল।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল এবং স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষাগুলো পুনরায় কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় ও কবে নেওয়া যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছিল।

 

শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও ক্ষোভের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল এবং নানামুখী দাবি দাওয়া ও অভিযোগ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উত্থাপন করেছিল।

 

শিক্ষার্থীদের এই মানসিক উৎকণ্ঠার প্রতি সরকার পূর্ণ সম্মান ও সহানুভূতি প্রদর্শন করে। সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি যুগান্তকারী, সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য যখন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষাগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি নতুন প্রশ্নপত্রের সেটে গ্রহণ করা হবে, ঠিক সেই একই সময়ে বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থগিত হওয়া পূর্বের পরীক্ষাগুলোও পুনরায় নেওয়ার সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ ব্যবস্থা করা হবে।

 

এর ফলে দুর্যোগকবলিত এলাকার কোনো সাধারণ পরীক্ষার্থীই তাদের মেধা মূল্যায়নের ন্যায্য সুযোগ থেকে বিন্দুমাত্র বঞ্চিত হবে না বলে তিনি সংসদকে জোরালোভাবে আশ্বস্ত করেন। সংসদে দেওয়া তার এই দীর্ঘ ও প্রাসঙ্গিক বক্তব্যের একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম এবং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র সমালোচনার বিষয়েও নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেন।

 

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এমন একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। অনেকেই তার সেই মন্তব্যকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও অসংবেদনশীল বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

 

এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের চিরতরে অবসান ঘটাতে গিয়ে মন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান যে, তার ওই মন্তব্যের পেছনে কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করার, ছোট করার বা হেয় প্রতিপন্ন করার কোনো প্রকার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।

 

নিতান্তই ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে করা তার ওই অনভিপ্রেত মন্তব্যের কারণে যদি কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক বা দেশবাসী মনে সামান্যতম কষ্ট পেয়ে থাকেন বা মানসিকভাবে আহত হয়ে থাকেন, তবে তিনি তার জন্য অত্যন্ত আন্তরিকভাবে ও প্রকাশ্যে সংসদে দাঁড়িয়ে দুঃখ প্রকাশ করছেন।

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুষিয়ে দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর।

 

শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল একটি গতানুগতিক প্রশাসনিক ঘোষণাই নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মানবিক, জবাবদিহিতামূলক ও দায়িত্বশীল আচরণের একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

 

এই ঘোষণার মাধ্যমে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাশ পরীক্ষার্থীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে, অন্যদিকে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর এমন বিনম্র দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে চলমান সামাজিক অস্থিরতা ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের অনেকটাই প্রশমন ঘটবে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একটি উন্নত ও কল্যাণকামী রাষ্ট্রে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এভাবেই নিশ্চিত করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেছেন।