বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনুপস্থিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

অনুপস্থিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বয়ে যাওয়া বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চলমান উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় যেসব পরীক্ষার্থী নিজেদের ইচ্ছার বাইরে গিয়েও অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য এক বিশেষ ও স্বস্তিদায়ক সুযোগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

 

এসব অনুপস্থিত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষায় বসার একটি সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এই সিদ্ধান্তটি দেশবাসী এবং উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের সামনে তুলে ধরেন।

 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এই পদক্ষেপকে শিক্ষাবিদরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে তিনশত বিধিতে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহসানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের জীবনে এই পাবলিক পরীক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল ও ভবিষ্যৎ নির্ধারক ধাপ।

 

তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈরী আবহাওয়া বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিবার্য কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যৎ যেন কোনোভাবেই হুমকির মুখে না পড়ে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার এই বিশেষ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

চলতি বছরের পরীক্ষার একটি বিস্তৃত পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এবার সারা দেশে মোট দুই হাজার ছয়শত সাতানব্বইটি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে বারো লাখ সত্তর হাজার পাঁচশত তিরাশি জন পরীক্ষার্থী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

 

তবে দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া প্রবল ও ভারী বর্ষণ এবং এর ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচটি জেলা-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে বেশ কিছু বিষয়ের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পূর্বঘোষণায় স্থগিত করা হয়েছিল।

 

শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জানান, শুধু চট্টগ্রাম বা পার্বত্য অঞ্চলই নয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বেশ কিছু জেলাগুলোতেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং বহুবিধ পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী বিচ্ছিন্নভাবে তাদের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলোতে যথাসময়ে উপস্থিত হতে পারেননি, যা তাদের মধ্যে গভীর হতাশা ও দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছিল।

 

অনুপস্থিত এই পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবং মানসিক চাপ নিরসনে সরকারের গৃহীত বিশেষ উদ্যোগের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী সংসদকে সুস্পষ্টভাবে অবহিত করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যে সকল পরীক্ষার্থী প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত ও অনিবার্য কারণে চলমান পরীক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন করে একটি ন্যায়সঙ্গত সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

 

এই দুর্ভাগা শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে, ঠিক সেই একই বিষয়ে এবং সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরবর্তীতে নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে এই বিশেষ পরীক্ষাগুলো দেশব্যাপী অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

 

সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা এক বড় ধরনের মানসিক দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবেন বলে সর্বমহলে প্রবলভাবে আশা করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, চলমান পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে থাকা মারাত্মক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের বিষয়েও সরকার যে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেছে, সে বিষয়টি মন্ত্রী সংসদে নিশ্চিত করেন।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়িত্বহীনতা, গাফিলতি ও ভুলের কারণে দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে তাদের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

 

এর পাশাপাশি, পরীক্ষার্থী ও তাদের উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের সম্পূর্ণভাবে আশ্বস্ত করে শিক্ষামন্ত্রী এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান যে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ছয় নম্বর এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত ভুল ছিল, তার কারণে কোনো নিরীহ শিক্ষার্থী যেন মূল্যায়নে পিছিয়ে না পড়ে বা তাদের মেধার অবমূল্যায়ন না হয়, তা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।

 

এই ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে ওই দুটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের বিপরীতে সম্পূর্ণ বা পূর্ণ নম্বর প্রদান করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সময়োপযোগী, সংবেদনশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্তটি জাতীয় সংসদে যেমন ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি দেশের সাধারণ মানুষের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও মানবনিয়ন্ত্রণের বাইরের পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের এমন দায়িত্বশীল, মানবিক ও অভিভাবকসুলভ আচরণ দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় নিঃসন্দেহে একটি অনন্য ও ইতিবাচক নজির স্থাপন করল।

 

এর প্রত্যক্ষ ফলে হাজার হাজার তরুণ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন একটি সম্ভাব্য ও নিশ্চিত বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল, যা তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার পথকে যেমন আরও মসৃণ করবে, তেমনি তাদের মানসিক বিকাশেও ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।