বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তরার সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তরার সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, অপ্রত্যাশিত জলাবদ্ধতা এবং দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

 

একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসহ মোট তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানী ঢাকার উত্তরার রাজপথে অবস্থান নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি ও চরম ভোগান্তি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেতেই মূলত তাদের এই নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন। বুধবার দুপুরে নির্ধারিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই শত শত শিক্ষার্থী উত্তরার বিএনএস সেন্টার ও এর আশপাশের এলাকায় দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন এবং নিজেদের যৌক্তিক দাবিগুলোর সপক্ষে নানা ধরনের স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন।

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, তাদের এই জমায়েত শেষে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে সরাসরি বাংলাদেশ সচিবালয় অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা বা লংমার্চ করার কথা রয়েছে।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের সার্বিক আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বর্তমানে এতটাই প্রতিকূল যে, স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বা পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা তাদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

বিশেষ করে বন্যাদুর্গত ও অতিবৃষ্টির কারণে তলিয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোর পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে অবর্ণনীয় দুর্দশার শিকার হতে হচ্ছে। এই অমানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

 

কিন্তু কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আশানুরূপ কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন বলে গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পরীক্ষার্থী শেখ রিফাত সংবাদকর্মীদের কাছে সার্বিক পরিস্থিতির একটি করুণ চিত্র তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত হতাশা ও ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, দেশের বন্যাকবলিত এবং মারাত্মক জলাবদ্ধতার শিকার এলাকাগুলোতে অসংখ্য পরীক্ষার্থী তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না।

 

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চরম পরিবহন সংকট ও রাস্তার বেহাল দশার ফলে ছাত্রছাত্রীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। এই নিদারুণ বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে শেখ রিফাতসহ উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীরা চলমান পরীক্ষাগুলো অবিলম্বে স্থগিত করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুনভাবে পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশের জোর দাবি জানান।

 

একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চরম দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে তারা শিক্ষামন্ত্রীর দ্রুত পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। এদিকে, বুধবার দুপুর থেকে উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থান, স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মিছিলের কারণে পুরো এলাকার যান চলাচলের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

উত্তরার বিএনএস সেন্টার, আজমপুর, জসিমউদ্দীন মোড় এবং এর আশপাশের সমস্ত প্রধান ও সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ধীরগতি ধারণ করে। প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় দুপুরের পর থেকে ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী অসংখ্য কর্মস্থলগামী মানুষ, সাধারণ যাত্রী এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত পরিবহনগুলোকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়।

 

অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকার পর বাধ্য হয়ে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। সার্বিক এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শক্ত হাতে এড়াতে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও যান চলাচল যথাসম্ভব স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক যানবাহন নিয়ন্ত্রক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

 

তারা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। এর আগে গত সোমবার রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়সহ ঢাকা শহর এবং দেশের আরও বেশ কয়েকটি স্থানে ঠিক একই দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

 

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরীক্ষা স্থগিত সংক্রান্ত কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার এই কঠোর অবস্থান ও সচিবালয় অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রার ডাক দেন বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা।

 

শিক্ষার্থীদের এই উত্তাল কর্মসূচি ও সম্ভাব্য পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সচিবালয় এলাকা, উত্তরা এবং রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।