বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান ডিএনসিসির

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান ডিএনসিসির
ছবি : Collected

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে পরিচালিত ফুটপাত দখলমুক্তকরণ উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এই ধরনের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান কোনো অবস্থাতেই থামবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর এলাকায় চলমান এই উচ্ছেদ অভিয চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

 

সাম্প্রতিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন যে, অবৈধভাবে কাউকে আর কখনো ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান যে, নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

তবে অভিযানের একপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে রাখা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের মদদপুষ্ট কিছু উশৃঙ্খল চক্র সিটি কর্পোরেশনের পরিবহন বিভাগ, সংবাদকর্মী এবং দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

তিনি জানান যে, হামলাকারীদের পূর্বপরিকল্পিত এই আগ্রাসনের মুখেও স্থানীয় সাধারণ মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়ায় এবং তাদের জনরোষের মুখে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। সাধারণ জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ প্রমাণ করে যে মিরপুরবাসী দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং ফুটপাতগুলো সম্পূর্ণ দখলমুক্ত দেখতে চায়।

 

উচ্ছেদ অভিযানে বাধাদান এবং সাংবাদিক ও সরকারি কর্মীদের ওপর হামলার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ডিএনসিসি এবং পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা দায়ের করা হবে।

 

সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে হামলাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, নেপথ্যের কোনো মদদদাতা যদি পুনরায় ফুটপাত দখলের কোনো ধরনের অপচেষ্টা চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

নগরবাসীর মৌলিক নাগরিক অধিকার রক্ষা করা সিটি কর্পোরেশনের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, জনগণের জোরালো দাবির মুখেই এই জনকল্যাণমুখী অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।

 

অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কিছু উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান যে, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে আশানুরূপ পুলিশ সদস্যের দেখা মেলেনি।

 

তা সত্ত্বেও সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম ও পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন যে হামলাকারীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে এই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

 

এর আগে মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও ফুটওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করার পর সেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছিল, যাতে সাধারণ পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।

 

বর্তমান অভিযানে উদ্ধারকৃত জায়গাগুলোতেও পরবর্তীতে জনস্বার্থে যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। উচ্ছেদ অভিযানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহকালে নির্যাতিত ও হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক তাদের পেশাগত সাহসিকতার প্রশংসা করেন।

 

তিনি বলেন যে সংবাদকর্মীরা সবসময় নগরবাসীর সেবায় এবং সত্য প্রকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন। সাধারণ মানুষের কাতার থেকে এই উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

 

একই সঙ্গে মিরপুর অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের চলাচলের পথ সুগম করতে এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন যে, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া কোনো উদ্যোগই পুরোপুরি সফল হতে পারে না।

 

দিনশেষে জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে মিরপুরের ফুটপাতগুলো দ্রুত বেদখল থেকে মুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।