এই সংশোধনীটি আরপিও-এর ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে আনা হয়েছে, যা জোটবদ্ধ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ পদ্ধতির দীর্ঘদিনের চর্চাকে বদলে দিয়েছে। পূর্ববর্তী বিধান অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক জোটগুলো আলোচনার মাধ্যমে তাদের যেকোনো একটি শরিক দলের প্রতীককে জোটের 'সাধারণ প্রতীক' হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ পেত। এর ফলে, জোটের অন্তর্গত ছোট দলগুলো প্রায়শই বৃহত্তর শরিক দলের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নিত এবং অতীতে এই ব্যবস্থার অধীনে বেশ কিছু প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভও করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বাধ্যবাধকতার ফলে জোটের রাজনীতি এবং নির্বাচনী কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। আইন মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে আসলো, যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। আরপিও-এর ২০ অনুচ্ছেদের এই সংশোধনীকে 'অগণতান্ত্রিক' এবং জোটের রাজনীতির পরিপন্থী বলে মনে করছে দলগুলো। বিএনপি এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে তাদের আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জোটবদ্ধ দলগুলোর পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক বেছে নেওয়ার অধিকার একটি প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক চর্চা। তারা এই সংশোধনী বাতিল করে পূর্ববর্তী বিধান, অর্থাৎ জোটের শরিকদের একটি অভিন্ন প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ পুনর্বহালের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। দলগুলো যুক্তি দেখিয়েছে যে, অতীতে অভিন্ন প্রতীক ব্যবহারে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়নি, তাই এই আকস্মিক পরিবর্তন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।