মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে 'গুম' প্রতিরোধে যুগান্তকারী আইন, অধ্যাদেশে চূড়ান্ত অনুমোদন

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩০ এএম

বাংলাদেশে 'গুম' প্রতিরোধে যুগান্তকারী আইন, অধ্যাদেশে চূড়ান্ত অনুমোদন
ছবি: File Photo

বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম বা 'এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স'-এর মতো গুরুতর অপরাধকে সর্বোচ্চ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি নতুন আইন প্রণয়নের চূড়ান্ত ধাপে উপনীত হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে "গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫" নামের এই ঐতিহাসিক খসড়া আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে গৃহীত এই সিদ্ধান্তে, গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা এই সংক্রান্ত অপরাধ দমনে একটি কঠোর বার্তা দিচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আইন প্রণয়নকে মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

"গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার" নামটিই ইঙ্গিত দেয় যে, এই আইন কেবল অপরাধ সংঘটনের পর শাস্তির বিধানই করছে না, বরং এই ধরনের অপরাধ যেন না ঘটে, তা প্রতিরোধ করা এবং ভুক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার অধিকারকেও নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই খসড়া অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সরকারের নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছিল। এর অর্থ হলো, আইনটির বিভিন্ন দিক এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে একাধিক পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের এই চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে, আইনটি এখন একটি অধ্যাদেশ হিসেবে জারির জন্য প্রস্তুত হলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে, সংসদ না থাকায় অধ্যাদেশের মাধ্যমেই জরুরি আইনগুলো প্রণয়ন করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে, ঢাকায় অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

 

তিনি নিশ্চিত করেন যে, উপদেষ্টা পরিষদ "গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫"-এর খসড়াটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে, দেশে বলপূর্বক গুমের মতো অপরাধকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। আশা করা হচ্ছে, এই আইনটি এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি সুরক্ষা পেতে সহায়তা করবে।