সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে সেনাপ্রধান এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তাঁর এই বক্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষায় সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন। সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এই ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করতে সেনাবাহিনী সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সেনাবাহিনী সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি পুনরুল্লেখ করেন। বক্তৃতায় সেনাপ্রধান মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জন্মলগ্ন থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদর্শিত পথে হেঁটে দেশের স্বার্থরক্ষা এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে।
ভবিষ্যতেও এই বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতিগঠনে তাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তাঁর কথায় উঠে আসে যে, সেনাবাহিনী কেবল একটি সামরিক শক্তি নয়, বরং জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সর্বদা জাতির পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান সেনাবাহিনীর বীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।
২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শান্তিকালীন সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ৬৪ জন সেনা সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৯ জন সদস্যকে ‘সেনা পদক’, ১৭ জনকে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ৩৮ জনকে ‘অসামান্য সেবা পদক’ এ ভূষিত করা হয়। এই পদক প্রদান কেবল ব্যক্তিগত কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং এটি বাহিনীর সামগ্রিক মনোবল ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির একটি প্রয়াস।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনা সদস্যদের সম্মান জানানোর অংশ হিসেবে ৭৫ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সেনাপ্রধান নিজেই উপস্থিত থেকে তাঁদের হাতে উপহার ও সম্মাননা তুলে দেন।
দেশের জন্য যাঁরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন সেনাবাহিনীর গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড নির্বাচনকালীন সময়ে জনমনে আস্থা ফেরাতে এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।