শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামী পাঁচ বছরে মামলার জট অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনার মহাপরিকল্পনা- আইন উপদেষ্টা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:৪৩ পিএম

আগামী পাঁচ বছরে মামলার জট অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনার মহাপরিকল্পনা- আইন উপদেষ্টা
ছবি: Collected

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা ও মামলার জট নিরসনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতে ‘ই-ফ্যামিলি কোর্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের বিচারিক আদালতে বিদ্যমান মামলার জট অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার যে বহুমুখী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

 

আইন উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বিচার বিভাগের সংস্কারের বাস্তবতা এবং কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার কোনো জাদুর কাঠি নয় যা রাতারাতি আমূল পরিবর্তন এনে দেবে। বরং এটি একটি ধারাবাহিক এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

 

তিনি বলেন, “সংস্কার মানেই হলো লেজিসলেটিভ বা আইনগত পরিবর্তন, আর এই পরিবর্তন হুট করে বা আবেগের বশবর্তী হয়ে করা সম্ভব নয়; এটি ধীরে ধীরে ও সুচিন্তিতভাবে করতে হয়।” তার মতে, তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনে না, বরং আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

মামলার জট কমানোর কৌশল হিসেবে ড. আসিফ নজরুল ‘লিগ্যাল এইড’ বা সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আদালতে ঝুলে থাকা বিপুল সংখ্যক মামলার মধ্যে অন্তত এক-তৃতীয়াংশই আইনি সহায়তার মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে নিষ্পত্তি করা হবে। এটি কার্যকর হলে আদালতের ওপর থেকে বাড়তি চাপ যেমন কমবে, তেমনি দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীরাও দ্রুততম সময়ে আইনি প্রতিকার পাবেন।

 

বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগের ২১টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে তিনি তথ্য দেন, যা বিচার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও জোর দেন আইন উপদেষ্টা। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ই-রেজিস্ট্রেশন বা ইলেকট্রনিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করার প্রাথমিক কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় পারিবারিক আদালতগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বা ‘ই-ফ্যামিলি কোর্ট’ চালু করা বিচার ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও স্বচ্ছ করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পারিবারিক বিরোধগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখানে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

 

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশকে গভীরভাবে ভালোবাসে।” তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে মৌলিক কাজগুলো শুরু করেছে, পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারগুলো দেশের স্বার্থেই সেই অসমাপ্ত কাজগুলো নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিচার বিভাগের এই সংস্কার উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মনে ন্যায়বিচারের প্রতি হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।