রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম

আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
ছবি: PID

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং জাতি গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর নিরলস অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনী এক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করবে।

 

বুধবার রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি)’ এবং ‘আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি) ২০২৫’-এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে আমাদের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে আপনাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

এই আয়োজন যাতে কেবল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকই নয়, বরং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, ভোটারদের জন্য দিনটিকে একটি উৎসবে পরিণত করতে হবে, যাতে জাতি গর্বের সঙ্গে মনে রাখতে পারে যে, তারা দেশটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিল।

 

সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মহামারির মতো জাতীয় সংকটে সশস্ত্র বাহিনী যে তড়িৎ সাড়া দিয়েছে এবং জনগণের মঙ্গলে আত্মনিবেদন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে তারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসাথে তিনি ‘জুলাই বিপ্লব’-এর শহীদ ও আহতদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, জাতি তাদের প্রতি চিরঋণী। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করেন।

 

তিনি বেগম জিয়াকে ‘জাতীয় নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতার জন্য আসুন আমরা সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি।” গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র এশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কোর্সের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও নেতৃত্বগুণ কাজে লাগিয়ে কর্মকর্তারা দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের বাংলাদেশের ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান ড. ইউনূস।

 

তিনি বলেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক উন্নয়নে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ যে ভূমিকা রাখছে, তা অনস্বীকার্য। সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার হুমকির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রশিক্ষণ কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।