শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব বিবেচনা করছে সরকার

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব বিবেচনা করছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

 

উদ্ভূত এই জ্বালানি পরিস্থিতি সামলাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি এবং তিন দিন ইন্টারনেটভিত্তিক বা অনলাইন ক্লাসের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অস্থিরতার কারণে দেশীয় অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত প্রস্তাবটির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলেও, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বুধবার এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা অফিস আদেশ জারি হতে পারে।

 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সরকারের এই পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার আলোকেই নতুন এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

এই পরিকল্পনায় বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অনলাইনভিত্তিক পাঠদান পদ্ধতি চালুর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় সপ্তাহে মোট ছয় দিন পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

এই কাঠামো অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর অথবা মাসের জোড়-বিজোড় তারিখের ভিত্তিতে ক্লাসগুলোকে বিভক্ত করা হবে। তবে অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করতে হবে।

 

অন্যদিকে, বিজ্ঞান শাখাসহ অন্যান্য ব্যবহারিক বিষয়গুলোর ক্লাস সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারে সম্পন্ন করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মিশ্র বা হাইব্রিড পদ্ধতির পাঠদান চালুর পেছনে সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো দুটি।

 

প্রথমত, সাম্প্রতিক দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা ধারাবাহিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, পরিবহন খাতের যাতায়াত হ্রাস ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে জাতীয় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এই পদ্ধতিটি আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এর সফলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।